মানুষের জায়গা নিতে পারবে না এআই! ছাঁটাই নিয়ে আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে কপালে ভাঁজ টেক জায়ান্টদের

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর জয়জয়কার। কিন্তু প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে কি হুটহাট কর্মী ছাঁটাই করা যায়? এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত প্রশ্নে এক ঐতিহাসিক রায় দিল চিনের হাংঝৌ ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট বার্তা—কেবলমাত্র এআই বা নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করার অজুহাতে কোনো কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে না। প্রযুক্তির যুগে মানুষের শ্রমের অধিকার রক্ষায় এই রায়কে এক বিশাল জয় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে। ঝোউ নামের এক ব্যক্তি একটি এআই কোম্পানিতে ‘কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সুপারভাইজার’ হিসেবে যোগ দেন। তাঁর কাজ ছিল বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের আউটপুট পরীক্ষা করা এবং অনুপযুক্ত কনটেন্ট ছেঁকে বাদ দেওয়া। মাসে প্রায় ২৫,০০০ ইউয়ান (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ টাকা) বেতন পেতেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন পর কোম্পানি দাবি করে, ঝোউ-এর বেশিরভাগ কাজ এখন এআই নিজেই করতে সক্ষম। এরপর তাঁকে বেতন কমিয়ে ১৫,০০০ ইউয়ান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ঝোউ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাঁকে সটান বরখাস্ত করে কোম্পানি।
আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ:
চাকরি হারিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ঝোউ। কোম্পানি যুক্তি দিয়েছিল যে, এআই আসার ফলে ব্যবসায়িক ‘পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন’ ঘটেছে, তাই এই ছাঁটাই বৈধ। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়। বিচারক জানান, এআই কোনো কাজকে সহজ করে দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু এটি তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের ভূমিকাকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিতে পারে না। কোম্পানি প্রমাণ করতে পারেনি যে ঝোউ-এর মূল কাজটি করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ফলে এই বরখাস্তকরণকে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করে আদালত।
কর্মীদের জন্য বড় বার্তা:
এই রায় বিশ্বজুড়ে সেইসব কোম্পানিগুলোর জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা, যারা খরচ কমাতে মানুষের বদলে এআই-কে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কম বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেওয়াকে ‘বৈধ পুনর্বণ্টন’ বলা যায় না। চিনা শ্রম আইন অনুযায়ী, কর্মীদের অধিকারকে প্রযুক্তির অগ্রগতির চেয়ে উপরে রাখা হয়েছে।
প্রযুক্তির বিবর্তন অনিবার্য, কিন্তু তা যেন মানুষের জীবিকার পথে অন্তরায় না হয়—হাংঝৌ আদালতের এই রায় ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে এআই সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।