এক পিওনের তিন স্ত্রী! ৮ কোটি টাকার কেলেঙ্কারিতে উত্তরপ্রদেশের ‘মহা-ঠগ’ ইলহামের কীর্তিতে থমকে গেল পুলিশ

কেবল সিনেমাতেই হয়তো এমন চিত্রনাট্য দেখা যায়! কিন্তু উত্তরপ্রদেশের পিলিভিটে যা ঘটেছে, তা হার মানাবে যেকোনো থ্রিলারকেও। জেলা স্কুল পরিদর্শক (DIOS) অফিসের একজন সাধারণ পিওন ইলহাম-উর-রহমান শামসি সরকারি কোষাগার থেকে শুধু ৮ কোটি টাকারও বেশি অর্থই লুট করেননি, বরং সেই টাকায় দিনের পর দিন চালিয়ে গেছেন তিনটি গোপন সংসার। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এক পিওন, তিন স্ত্রী এবং এক বিশাল জালিয়াতি:
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, ইলহামের তিন স্ত্রীর কেউই জানতেন না যে তাঁদের স্বামীর আরও সংসার রয়েছে। প্রত্যেক স্ত্রীকে আলাদা আলাদা শহরে রেখে বিলাসবহুল জীবন উপহার দিচ্ছিলেন এই পিওন। আর এই বিপুল অর্থের উৎস ছিল সরকারি কোষাগার। চতুর ইলহাম অফিসের বেতন টোকেন তৈরির কাজ নিজের হাতে নিয়ে নিয়েছিল। এরপর সে তার তিন স্ত্রী, শাশুড়ি, ননদ এবং অন্যান্য আত্মীয়দের ভুয়া ‘শিক্ষক’ ও ‘কেরানি’ সাজিয়ে সরকারি বেতন পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। গত আট বছরে এইভাবে ৮১.৫ মিলিয়ন (প্রায় ৮ কোটি ১৫ লক্ষ) টাকা আত্মসাৎ করেছে সে।

যেভাবে ফাঁস হলো কোটিপতি পিওনের কীর্তি:
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংক অফ বরোদার একজন ম্যানেজারের চিঠিতে এই পর্দা ফাঁস হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে লেখা ওই চিঠিতে জানানো হয়, ট্রেজারি থেকে ১.১৫ কোটি টাকা একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে রহস্যজনকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। তদন্তে নামতেই বেরিয়ে আসে এই বিশাল চক্রের মূল হোতা খোদ অফিসেরই পিওন। পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৫৩টি সন্দেহজনক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছে এবং প্রায় ৫.৫০ কোটি টাকা জব্দ করেছে।

পরিবারসহ শ্রীঘরে অভিযুক্তরা:
শুক্রবার পুলিশ এই জালিয়াতি মামলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। মূল অভিযুক্ত ইলহামের প্রথম স্ত্রী আরশি খাতুন আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এবার তাঁর দুই স্ত্রী লুবনা ও আজারা খান, শাশুড়ি নাহিদ এবং ননদসহ মোট ৭ জন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় দ্বিতীয় স্ত্রী আজারা খান জানিয়েছেন, ইলহামের অন্য বিয়েগুলোর বিষয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না।

বর্তমানে এই মামলার তদন্ত জারি রয়েছে। একজন সাধারণ পিওন কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বছরের পর বছর এত বড় মাপের আর্থিক কেলেঙ্কারি চালিয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।