গণনার ৪৮ ঘণ্টা আগে সুপ্রিম কোর্টে মমতা! ইভিএম পাহারায় শুধুই কেন্দ্রীয় কর্মী? জট কাটাতে বিশেষ বেঞ্চ

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতে আর মাত্র দু’দিন বাকি। তার আগেই গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং কর্মী নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নয়া মোড়। কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মাধ্যমে ভোট গণনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে শনিবার সকালেই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
মামলার প্রেক্ষাপট: কেন ক্ষুব্ধ তৃণমূল?
আগামী ৪ মে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে। কিন্তু গণনা কেন্দ্রের বিন্যাস এবং কর্মী নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া একটি সিদ্ধান্তে প্রবল আপত্তি তুলেছে রাজ্যের শাসক দল। কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি গণনার টেবিলে কমপক্ষে একজন করে কাউন্টিং সুপারভাইজার বা সহকারী হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারি অথবা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার (PSU) কর্মীদের রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তৃণমূলের আশঙ্কা, শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের এই আধিপত্য গণনার নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
হাইকোর্টের রায় ও তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে এই মর্মে জোড়া মামলা দায়ের করেছিল তৃণমূল। তবে শুক্রবার হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, গণনার কাজে কাকে নিয়োগ করা হবে তা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত। কমিশনের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে আদালত তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে দেয়। যদিও আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, গণনা চলাকালীন যদি কোনো কেন্দ্রীয় কর্মীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব বা ‘বেনিয়মের’ সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি পথ খোলা থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টে আজই ‘অগ্নিপরীক্ষা’
হাইকোর্টের এই রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে রাতারাতি সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করে তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা। ৪ মে সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, তাই আজকের এই শুনানির ওপর নির্ভর করছে গণনাকেন্দ্রের চূড়ান্ত পরিকাঠামো।
তৃণমূলের দাবি, প্রতিটি টেবিলে রাজ্য সরকারি কর্মীদেরও সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি। এখন দেখার, শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে নাকি গণনার ঠিক আগে বড় কোনো নজিরবিহীন নির্দেশ দেয়। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দিল্লির সুপ্রিম কোর্টের এজলাসের দিকেই।