পান্নায় স্বাস্থ্য পরিষেবার চরম অবহেলা! অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় প্রাণ গেল গৃহবধূর, ময়নাতদন্তের জন্যও দীর্ঘ অপেক্ষা!

মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের গাফিলতি নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। গত রাতে বিষাক্ত পদার্থ সেবনকারী বিদ্যা কুশওয়াহা (৪০) নামে এক মহিলাকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে মূলত সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ার কারণে।

কী ঘটেছিল?
মৃতার স্বামী নন্দী কুশওয়াহা জানিয়েছেন, গত মার্চ মাসে তাঁদের ১৭ বছর বয়সী ছেলে দেবরাজের অকালমৃত্যুর পর থেকে বিদ্যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। সেই মানসিক চাপের কারণেই সম্ভবত তিনি বিষপান করেন।

অ্যাম্বুলেন্সের প্রতীক্ষা: রাত সাড়ে ১১টার দিকে ১০৮ অ্যাম্বুলেন্সকে কল করা হলেও সেটি এসে পৌঁছায় আড়াই ঘণ্টা দেরিতে, অর্থাৎ রাত ২টায়।

পরপর ব্যর্থতা: অজয়গড় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে পান্না জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু সেখানেও অ্যাম্বুলেন্সের জন্য পরিবারকে আরও এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বাধ্য হয়ে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে রওনা হওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ময়নাতদন্তেও চূড়ান্ত হয়রানি
মৃতদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। সকাল ৯টার দিকে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি জেলা হাসপাতালে পাঠালেও, দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালের চিকিৎসক বা ময়নাতদন্তের কোনো কর্মীর দেখা মেলেনি। শোকসন্তপ্ত পরিবারটি তিন ঘণ্টা ধরে হাসপাতালে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পায়নি। শেষমেশ ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে বিক্ষোভ শুরু করেন।

হাসপাতালের ভূমিকা ও অভিযোগ
হাসপাতাল চত্বরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হতেই টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। দ্রুত একজন চিকিৎসককে ডেকে পাঠানো হয় এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এই ঘটনা ফের একবার সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার অন্তঃসারশূন্যতাকে সামনে নিয়ে এল। সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না থাকা বা ময়নাতদন্তের মতো জরুরি কাজে চিকিৎসকদের গাফিলতি—একই দিনে ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনা পান্নার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমিয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *