বন্ধুরূপী বিভীষণ পাকিস্তান? ইরানের পিঠে ছুরি মেরে কি আমেরিকাকে সাহায্য করছে ইসলামাবাদ?

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে একদিকে যখন বারুদের গন্ধ, তখন পর্দার আড়ালে দাবার চাল চালছে পাকিস্তান। প্রকাশ্যে শান্তির দূত সাজলেও ইসলামাবাদের ভূমিকা নিয়ে এখন বিশ্ব রাজনীতিতে উঠছে হাজারো প্রশ্ন। একদিকে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তেহরান থেকে রিয়াদ ছুটছেন শান্তি ফেরাতে, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা করছেন। কিন্তু গোয়েন্দা রিপোর্ট যা বলছে, তা সত্যি হলে একে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের অন্যতম বড় ‘কৌশলগত প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

গোপন আঁতাত: আকাশ ও সমুদ্রপথে মদত?
সোশ্যাল মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে গোপনে সাহায্য করছে পাকিস্তান। অভিযোগের আঙুল বেশ নির্দিষ্ট:

আকাশসীমা ব্যবহার: মার্কিন অত্যাধুনিক MQ-9B ড্রোনের মতো সশস্ত্র নজরদারি বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধবিমানের ভূমিকা: আরব সাগরে মার্কিন রণতরীর নিরাপত্তায় পাকিস্তানের F-16 যুদ্ধবিমান পাহারা দিচ্ছে।

নৌবাহিনীর গোপন তথ্য: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, পাকিস্তানের নৌবাহিনী নাকি ইরানের ছোট-বড় জাহাজের সঠিক অবস্থান মার্কিন বাহিনীকে পাচার করে দিচ্ছে।

যদিও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই দাবিকে “ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর” বলে উড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু ইতিহাস অন্য কথা বলে।

পুরানো অভ্যেস: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে অস্বীকার করা পাকিস্তানের পুরনো কৌশল। সত্তরের দশকে সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময়ও পাকিস্তান বছরের পর বছর অস্বীকার করেছিল যে তারা সিআইএ-র হয়ে মুজাহিদীনদের অস্ত্র সরবরাহ করছে। ফলে মুখে এক কথা আর কাজে অন্য—এই ‘ডাবল গেম’ পাকিস্তানের পুরনো দস্তুর।

প্রযুক্তিগত যোগসূত্র: ৬৮৬ মিলিয়ন ডলারের রহস্য
এই সন্দেহের আগুনে ঘি ঢালছে একটি নির্দিষ্ট সামরিক চুক্তি। ডিসেম্বর ২০২৫-এ ওয়াশিংটন পাকিস্তানের জন্য ৬৮৬ মিলিয়ন ডলারের একটি এফ-১৬ (F-16) আপগ্রেড প্যাকেজ অনুমোদন করে।

প্রযুক্তিগত ফ্যাক্ট: এই প্যাকেজে রয়েছে Link-16 Tactical Data Link এবং Mode 5 IFF ক্রিপ্টোগ্রাফিক সিস্টেম। এগুলি মূলত ন্যাটো (NATO) প্রযুক্তির সরঞ্জাম, যার মাধ্যমে পাকিস্তানি বিমানগুলি মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে রিয়েল-টাইমে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। ২০২৬-এর যুদ্ধের ঠিক আগে এই আধুনিকীকরণ কি নিছকই কাকতালীয়?

কেন এই ঝুঁকি নিচ্ছে ইসলামাবাদ?
তুরস্ক, ব্রিটেন বা উপসাগরীয় দেশগুলি যখন সরাসরি আমেরিকাকে ঘাঁটি গাড়তে বাধা দিচ্ছে, তখন পাকিস্তানের গুরুত্ব পেন্টাগনের কাছে বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর বিনিময়ে পাকিস্তান যা পাচ্ছে:
১. অস্ত্রের ভাণ্ডার: অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা।
২. কূটনৈতিক প্রাধান্য: আমেরিকার কাছে ফের ‘অপরিহার্য মিত্র’ হয়ে ওঠার চেষ্টা।
৩. ভারতের ওপর চাপ: ভারত-মার্কিন ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের পালটা হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করা।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের চরম ঝুঁকি
তবে এই ডাবল গেম পাকিস্তানের জন্য আত্মঘাতীও হতে পারে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ২০২৪-এর শুরুতে ইরান প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারা প্রয়োজনে পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে হামলা চালাতে পারে। এখন যদি তেহরান নিশ্চিত হয় যে ইসলামাবাদ পেছন থেকে ছুরি মারছে, তবে সীমান্ত পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আপাতত ইসলামাবাদ কূটনীতিকের মুখোশ পরে থাকলেও, সেই মুখোশের আড়ালে থাকা আসল চেহারাটা বোধহয় বিশ্ববাসীর কাছে আর গোপন থাকছে না।