সৌজন্যের বালাই নেই, চোখে চোখ রেখে যুদ্ধ! ভবানীপুরে দুই প্রার্থীর ফেস-অফে চরমে উত্তেজনা

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে বড় ‘ফেসবুক লাইভ’ মুহূর্তটি তৈরি হলো বুধবার সকালে। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বুথে আক্ষরিক অর্থেই মুখোমুখি হলেন দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। বুথের ভেতরে আগে থেকেই বসেছিলেন মমতা, ঠিক তখনই সেখানে পৌঁছায় শুভেন্দুর কনভয়। দুই যুযুধান পক্ষ একই আঙিনায় থাকলেও, সৌজন্য বিনিময়ের বদলে চলল তীব্র বাক্যবাণ।
“হতাশা চরমে, কেউ ভোট দিচ্ছে না”: শুভেন্দু
বুথ থেকে বেরিয়েই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন:
“একটা ভোটও কেউ ওঁকে দিচ্ছেন না। পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই হতাশা চরমে পৌঁছেছে, তাই বুথে বসে রয়েছেন তিনি। ভবানীপুরের মানুষ এবার রায় দিয়ে দিয়েছেন।”
“ভবানীপুরে এখন টেররিজম চালানো হচ্ছে”: মমতা
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত থেকে তাঁর কর্মীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করা হচ্ছে। মমতা বলেন:
“আমি সারারাত জেগে পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছি। ভবানীপুরে এখন ‘টেররিজম’ (সন্ত্রাস) চালানো হচ্ছে।”
“চক্রবেড়িয়ায় আমাদের সব পোস্টার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাইরের পর্যবেক্ষকরা বিজেপির ইশারায় নাচছেন।”
ভাঙড়ের অশান্তি নিয়ে কমিশনকে একহাত নিয়ে তাঁর প্রশ্ন— “এভাবে ভয় দেখিয়ে কি ভোট পাওয়া যায়? ওরা জোর করে জিততে চাইছে।”
সকালে মন্দির, দুপুরে ময়দান
এদিন সকালে খিদিরপুরের হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজের দিন শুরু করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, রেওয়াজ ভেঙে সাতসকালেই রাজপথে নেমে বুথ পরিদর্শন শুরু করেন মমতা। একই কেন্দ্রে দুই হেভিওয়েটের এই মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে বুথ চত্বরে সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
কেন নজরকাড়া এই লড়াই?
২০২১-এর নন্দীগ্রামের স্মৃতি উসকে দিয়ে ২০২৬-এর ভবানীপুর এখন বাংলার রাজনীতির শেষ কথা। মমতা নিজের গড় রক্ষা করতে মরিয়া, আর শুভেন্দুর লক্ষ্য সেখানে পদ্ম ফোটানো। বুথের ভেতরে মমতা যখন ঠায় বসেছিলেন, তখনই শুভেন্দুর উপস্থিতি বুঝিয়ে দিল—এক ইঞ্চি জমিও বিনা যুদ্ধে ছাড়তে নারাজ কোনো পক্ষই।