“৩০ হাজারে হারবেন মমতা!” ভবানীপুরের বুথে বুথে ঘুরে চরম হুঙ্কার শুভেন্দুর, পাল্টা দিলেন মুখ্যমন্ত্রীও

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে বড় ‘ভিভিআইপি’ লড়াই এখন ভবানীপুরে। নন্দীগ্রামের পর ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সকাল থেকেই নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের বুথে বুথে ঝোড়ো সফর শুরু করেছেন বিজেপি প্রার্থী। আত্মবিশ্বাসের সুর চড়িয়ে শুভেন্দু দাবি করেছেন, এবার খোদ খাসতালুকেই পরাজিত হবেন মুখ্যমন্ত্রী।

“৩০ হাজারে হারবেন মমতা”: শুভেন্দুর হুঙ্কার
সকালে চেতলার বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের সামনে বড় দাবি করেন। তিনি বলেন:

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ৩০ হাজার ভোটে হারবেন। কোনো গুন্ডামি করতে দেবো না। ভয় দেখিয়ে ভোট লুঠের চেষ্টা করলে মানুষই রুখে দাঁড়াবে। আমি জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।”

বুথ পরিদর্শনের সময় এক চমকপ্রদ দৃশ্যের অবতারণা হয়। চেতলায় তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিমের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। সেখানে সৌজন্য বিনিময়ের পাশাপাশি বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় তাঁদের, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

“অভিষেক আর আমি সারারাত জেগে ছিলাম”: মমতার পাল্টা
অন্যদিকে, বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে আসা পর্যবেক্ষকরা সরাসরি বিজেপির কথায় চলছেন। মমতা বলেন:

“ওরা আমাদের ছেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না।”

“পরিস্থিতি সামলাতে অভিষেক আর আমি সারারাত জেগে নজরদারি চালিয়েছি।”

তৃণমূলের পতাকা-ব্যানার সরিয়ে ফেলার অভিযোগ তুলে কমিশনকে একহাত নেন তিনি।

চেতলায় দুই শিবিরের টানটান স্নায়ুযুদ্ধ
এদিন ভবানীপুরের অন্তর্গত চেতলা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা যায়। একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরহাদ হাকিমের সাথে দেখা করতে তাঁর ডেরায় পৌঁছান, অন্যদিকে শুভেন্দুও সেই চেতলাতেই নিজের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করেন। গত সোমবার রাতে ফিরহাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হানা নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত আবহাওয়ার রেশ আজ ভোটের বুথেও স্পষ্ট।