ভবানীপুরের বুথে মুখোমুখি মমতা-শুভেন্দু! একে অপরকে দেখেও যে যা করলেন, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে বড় মহড়া দেখল ভবানীপুর। বুধবার সকালে চক্রবেড়িয়ার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বুথে যেন আক্ষরিক অর্থেই ‘টাইটানিক’ সংঘর্ষ হলো। বুথের ভেতরে আগে থেকেই হাজির ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সেই সময় সেখানে প্রবেশ করে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়। দুই যুযুধান পক্ষ একই আঙিনায় থাকলেও, তাঁদের মধ্যে সৌজন্যের লেশমাত্র দেখা যায়নি। বরং বুথ চত্বরেই চলল শানিত বাক্যবাণ।

“হার নিশ্চিত জেনেই বুথে বসে মমতা”: শুভেন্দু
বুথ থেকে বেরিয়েই এক ইঞ্চি জমি না ছেড়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতার বুথে উপস্থিত থাকাকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন:

“একটা ভোটও কেউ ওঁকে দিচ্ছেন না। পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই হতাশা চরমে পৌঁছেছে, তাই বুথে বসে রয়েছেন। ভবানীপুরের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিচ্ছেন।”

“ভবানীপুরে এখন টেররিজম চালানো হচ্ছে”: মমতা
অন্যদিকে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন বিজেপি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। তিনি দাবি করেন, রাতভর তাঁর কর্মীদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। মেজাজ হারিয়ে মমতা বলেন:

“আমি সারারাত জেগে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। ভবানীপুরে এখন ‘টেররিজম’ (সন্ত্রাস) চালানো হচ্ছে।”

“এসব করে কি ভোট পাওয়া যায়? ওরা গায়ের জোরে ভোট জিততে চাইছে।”

ভাঙড়ের অশান্তি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে একহাত নেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষপাতিত্ব নিয়ে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি।

বুথ চত্বরে টানটান উত্তেজনা
মমতা ও শুভেন্দুর এই মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বুথের বাইরে তখন স্লোগান আর পাল্টা স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত। পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিপুল তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও, গোটা এলাকা ছিল বারুদের স্তূপের মতো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরের এই ‘ফেস-অফ’ কেবল ভোটের লড়াই নয়, বরং এক প্রকার মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বুথের ভেতরকার এই স্নায়ুযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ইভিএম-এ কী প্রতিফলন ঘটায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।