মেলানিয়াকে ‘গর্ভবতী বিধবা’ বলে কটাক্ষ! জিমি কিমেলের রসিকতায় চটে লাল ট্রাম্প, এবিসি থেকে ছাঁটাইয়ের দাবি

হাস্যকৌতুক আর ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমারেখা কি মুছে যাচ্ছে? জনপ্রিয় লেট-নাইট শো ‘জিমি কিমেল লাইভ!’-এর সঞ্চালক জিমি কিমেলের একটি মন্তব্য এখন এই প্রশ্নই তুলে দিয়েছে। গত ২৩শে এপ্রিল নিজের অনুষ্ঠানে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে দেখে কিমেল মন্তব্য করেন, “মিসেস ট্রাম্প, আপনাকে তো একজন গর্ভবতী বিধবার মতো উজ্জ্বল দেখাচ্ছে।” ### টাইমিং ও ঘনীভূত বিতর্ক
কিমেলের এই মন্তব্যের ঠিক দুই দিন পরেই অর্থাৎ ২৫শে এপ্রিল ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার’ চলাকালীন একটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেই অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া উপস্থিত ছিলেন। এই প্রাণঘাতী হামলার পর কিমেলের ‘বিধবা’ সম্বোধনটিকে অনেকে ট্রাম্পের মৃত্যু কামনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বক্তব্যকে ‘জঘন্য ও সহিংসতায় উস্কানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এবিসি (ABC) চ্যানেলের কাছে কিমেলকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। মেলানিয়া ট্রাম্পও এই মন্তব্যের নিন্দা করে বলেছেন, এটি কৌতুক নয় বরং ঘৃণা ছড়ানোর প্রচেষ্টা।

কিমেলের সাফাই: ‘শুধু বয়সের ব্যবধান’
বিতর্ক তুঙ্গে উঠলে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন জিমি কিমেল। তাঁর দাবি, এই মন্তব্যের সঙ্গে গুলির ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি কেবল ট্রাম্প ও মেলানিয়ার মধ্যেকার বিশাল বয়সের পার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করে মজা করতে চেয়েছিলেন। নিজের বাকস্বাধীনতার অধিকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কিমেল বলেন, তাঁর কোনো উদ্দেশ্যই সহিংসতাকে উস্কে দেওয়া ছিল না।

বিতর্ক কিমেলের পুরনো সঙ্গী
জিমি কিমেল আমেরিকার অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী লেট-নাইট শো হোস্ট। অস্কার ও এমি অ্যাওয়ার্ডসের মতো বড় বড় মঞ্চও তিনি সামলেছেন। তবে বিতর্কের মুখে পড়াও তাঁর জন্য নতুন নয়:

২০১৫: চার্লি কার্ক সম্পর্কিত একটি মন্তব্যের জেরে এবিসি নিউজ তাঁর অনুষ্ঠান একদিনের জন্য স্থগিত করেছিল।

ম্যাট ডেমন: অভিনেতা ম্যাট ডেমনের সাথে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী কাল্পনিক ‘ঝগড়া’ অবশ্য দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

কে এই জিমি কিমেল?
১৯৬৭ সালে নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া জিমি একাধারে প্রযোজক, লেখক ও কৌতুক অভিনেতা। ব্যক্তিগত জীবনে চার সন্তানের পিতা জিমি ‘নারকোলেপসি’ নামক এক স্নায়বিক রোগে ভুগছেন। এই রোগের কারণে যে কেউ যেকোনো সময় হঠাৎ করে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন।

উপসংহার: আমেরিকার রাজনীতি ও বিনোদন জগতের এই লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে রসিকতার মোড়কে কারোর মৃত্যু কামনা বা ব্যক্তিগত আক্রমণ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে জোরদার বিতর্ক।