বাস্তবে জেল আর পর্দায় ‘খলনায়ক’! সঞ্জয় দত্তের জীবনের সেই ভয়ংকর দিনগুলো, যা আজও বলিউডকে কাঁঁপিয়ে দেয়

নব্বইয়ের দশকের সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে? যখন পাড়ায় পাড়ায় প্রচার ভ্যান থেকে ঘোষণা আসত— “তৈরি থেকো শহরবাসী, তাণ্ডব চালাতে আসছে বাল্লু বলরাম!” লাউডস্পিকারে বাজত সেই আইকনিক গান, “নায়ক নেহি, খলনায়ক হুঁ ম্যায়…”। কিন্তু পর্দার এই খলনায়কের নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল এমন এক বাস্তব গল্প, যা যেকোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।

১৯৯৩: যখন বাস্তব আর রূপোলি পর্দা মিলেমিশে একাকার
১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ মুম্বাই ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দেশ। ২৬ এপ্রিল অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে গ্রেপ্তার হন অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। ঠিক সেই সময়েই সুভাষ ঘাই বানাচ্ছিলেন তাঁর ড্রিম প্রজেক্ট ‘খলনায়ক’। পর্দায় বাল্লু বলরাম যেমন এক বড় মাপের বাবার অবাধ্য ছেলে, বাস্তবেও সাংসদ সুনীল দত্তের ছেলে সঞ্জয় তখন খবরের শিরোনামে। দর্শকরা পর্দার চরিত্রের সঙ্গে বাস্তবের সঞ্জয়ের মিল খুঁজে পাওয়ায় তৈরি হয় এক অভাবনীয় উন্মাদনা, যা ছবিটিকে ব্লকব্লাস্টার করে তোলে।

একই দিনে ‘খলনায়ক’ বনাম ‘খলনায়িকা’
১৯৯৩ সালের ৬ আগস্ট বক্স অফিসে ঘটে এক বিরল ঘটনা। সুভাষ ঘাইয়ের ‘খলনায়ক’-এর ঠিক উল্টোদিকে মুক্তি পায় সাওয়ান কুমারের ছবি ‘খলনায়িকা’। হলিউড ছবি ‘দ্য হ্যান্ড দ্যাট রকস দ্য ক্রেডল’ অবলম্বনে তৈরি এই ছবিতে প্রধান ভ্যাম্পের চরিত্রে ছিলেন ‘আশিকি’ গার্ল অনু আগরওয়াল। হাতে ছুরি নিয়ে অনুর সেই বিধ্বংসী রূপ দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন।

শত্রুঘ্ন সিনহার বাড়িতে সেই সংঘাত:
শোনা যায়, শত্রুঘ্ন সিনহার এক পার্টিতে সুভাষ ঘাই সাওয়ান কুমারকে ছবির নাম ও মুক্তির তারিখ বদলাতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু জেদি সাওয়ান রাজি হননি। জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। শেষমেশ আইনি লড়াইয়ে জয় হয় সাওয়ান কুমারেরই, কারণ তাঁর ছবির গল্প ছিল একদম আলাদা।

কে জিতল শেষ লড়াই?
বক্স অফিসে লড়াই হলেও সঞ্জয় দত্তের গর্জনের সামনে ম্লান হয়ে গিয়েছিল অনু আগরওয়ালের ছুরি। ‘খলনায়িকা’ দুর্বল গল্প ও গানের কারণে মুখ থুবড়ে পড়ে। অন্যদিকে, ‘খলনায়ক’ একের পর এক রেকর্ড ভাঙতে থাকে। সঞ্জয় দত্ত তখন জেলের ভেতরে, কিন্তু বাইরে তাঁর ভক্তরা ‘বাল্লু বলরাম’-এর উন্মাদনায় মাতোয়ারা।

ফিরে দেখা: সঞ্জয় দত্তের জীবনের সেই কালো অধ্যায়টিই যেন সুভাষ ঘাইয়ের ছবির জন্য সাফল্যের লটারি হয়ে এসেছিল। ‘খলনায়ক’ আজও বলিউডের অন্যতম সেরা অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে অমর হয়ে আছে।