রণক্ষেত্র জামিয়া মিলিয়া! আরএসএস-এর ‘যুব কুম্ভ’ রুখতে রাজপথে ছাত্ররা, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

দেশের রাজধানী দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আবারও ছাত্র রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। মঙ্গলবার আরএসএস-এর একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় ক্যাম্পাস চত্বরে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসা (AISA) এবং এসএফআই (SFI)-এর তীব্র বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যায়নি আরএসএস-এর অনুষ্ঠান।

প্রতিবাদের কারণ: আরএসএস-এর ‘যুব কুম্ভ’
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে জামিয়ার এফইটি অডিটোরিয়ামে ‘যুব কুম্ভ’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে এটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে আইসার ব্যানারে শত শত ছাত্র স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ শুরু করে। এই প্রতিবাদের জেরে ক্যাম্পাসের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং অনুষ্ঠানটি স্থগিত রাখতে হয়।

জামিয়া প্রশাসনের দিকে আঙুল
বিক্ষোভকারী ছাত্র সংগঠনগুলোর মূল অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে। আইসা এক বিবৃতিতে দাবি করেছে:

সাধারণ ছাত্র সংগঠনগুলোকে যেখানে কোনো গণতান্ত্রিক আলোচনার অনুমতি দেওয়া হয় না, সেখানে আরএসএস-কে কেন অডিটোরিয়াম ছেড়ে দেওয়া হলো?

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় বিশেষ কোনো সংগঠনের আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ক্যাম্পাসে ‘সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা’ উৎসাহিত করার মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।

একজোট আইসা ও এসএফআই
এই আন্দোলনে আইসার পাশে দাঁড়িয়েছে এসএফআই-ও। তাদের মতে, জামিয়ার মতো একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘৃণা ও বিভেদের রাজনীতি ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ছাত্রনেতাদের স্পষ্ট বার্তা—দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ রক্ষা করতে তারা যেকোনো স্তরে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।

বর্তমান পরিস্থিতি
বিকেল পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি শুরু করা যায়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না বা পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির ছাত্র রাজনীতিতে ফের বড়সড় মেরুকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।