মাঠে লুঙ্গি এনগিডির রক্তক্ষরণ, গ্রিন করিডোর বানিয়ে প্রাণ বাঁচালেন এসিপি! সেই পুলিশ অফিসারের সাথেই খেলতেন কোহলি?

আইপিএল ২০২৬-এর আসরে ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। দিল্লি ক্যাপিটালসের পেসার লুঙ্গি এনগিডি বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ ধরতে গিয়ে মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর চোট পান। মাঠেই লুটিয়ে পড়েন এই প্রোটিয়া তারকা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে তাঁকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। কিন্তু প্রাণঘাতী এই সময়ে ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের এসিপি সঞ্জয় সিং।
১১ মিনিটের জীবনযুদ্ধ ও গ্রিন করিডোর
শহরের ব্যস্ততম সময়ে যখন অ্যাম্বুলেন্স আটকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল, তখন এসিপি সঞ্জয় সিং নিজের ক্রিকেটীয় বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করেন ‘অস্থায়ী গ্রিন করিডোর’। মাত্র ১১ মিনিটে অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম থেকে বিএলকে ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয় এনগিডিকে। তাঁর এই তৎপরতা এখন নেট দুনিয়ায় প্রশংসিত।
যখন এক দলে খেলতেন সঞ্জয় ও কোহলি
তৎপর এসিপি সঞ্জয় সিংয়ের পরিচয় কেবল পুলিশ অফিসারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি দিল্লির ঘরোয়া ক্রিকেটের একজন পরিচিত মুখ। রেভ স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ২০০৩-০৪ সালের এক চমৎকার স্মৃতি শেয়ার করেছেন। তখন ১৬ বছরের এক কিশোর বিরাট কোহলি তাঁর সতীর্থ ছিলেন।
সঞ্জয় সিং জানান, দিল্লি পুলিশ লিগে বিরাটের দল যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও নিয়মের ভিত্তিতে বিরাটকে তাঁদের দলে নেওয়া হয়েছিল। এসিপি-র কথায়, “বিরাট আমাদের দলের হয়ে খেলেছিল, যা আমাকে আজকের কিংবদন্তির সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।”
চায়ের আড্ডায় নয়, ইনডোরে পড়ে থাকতেন বিরাট
সঞ্জয় সিং বিরাটের নিষ্ঠার প্রশংসা করে এক অসাধারণ ঘটনা শোনান। তিনি বলেন, “সেদিন প্রবল বৃষ্টিতে ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়াম জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। আমরা যখন বাকিরা চা-পকোড়া খেয়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম, ১৬ বছরের বিরাট তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একা ইনডোরে প্র্যাকটিস করছিল। ভিজে মাঠেও ক্রিকেটের প্রতি এই পাগলপনই তাঁকে আজকের এই শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।”
উপসংহার: মাঠের ভেতরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক বা পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ—এসিপি সঞ্জয় সিং প্রমাণ করলেন একজন প্রকৃত খেলোয়াড় ইউনিফর্ম পরে থাকলেও মাঠের প্রতি টান অনুভব করেন। লুঙ্গি এনগিডির শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে হাসপাতাল সূত্রে।