হনুমানের লেজ নাড়াতে পারলেন না মহাবলী ভীম! জ্যৈষ্ঠ মাসের ‘বুধ্ব মঙ্গলে’ জানুন বজরংবলীর সেই অলৌকিক লীলা

হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জ্যৈষ্ঠ মাস অত্যন্ত পবিত্র। বিশেষ করে এই মাসের মঙ্গলবারগুলো ‘বড় মঙ্গল’ বা ‘বুধ্ব মঙ্গল’ হিসেবে উদযাপিত হয়। ২০২৬ সালে ২রা মে থেকে ২৯শে জুন পর্যন্ত চলবে এই পুণ্য মাস। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই জ্যৈষ্ঠ মাসেই ঘটেছিল এক অদ্ভুত ঘটনা—অহংকারী ভীম মুখোমুখি হয়েছিলেন সংকটমোচন হনুমানের।
যখন শক্তির মত্ততায় অন্ধ হলেন ভীম
ঘটনাটি মহাভারতের বনবাস আমলের। দ্রৌপদীর আবদারে দুর্লভ সুগন্ধি পদ্মফুল আনতে গন্ধমাদন পর্বতের দিকে রওনা হন মহাবলী ভীম। নিজের শারীরিক শক্তি নিয়ে ভীমের মনে তখন চরম অহংকার। তিনি ভাবতেন, ব্রহ্মাণ্ডে তাঁর চেয়ে শক্তিশালী আর কেউ নেই। ভীমের এই অহংকার ভাঙতে এবং তাঁকে আসন্ন যুদ্ধের পাঠ দিতে এক বৃদ্ধ ও জরাজীর্ণ বানরের ছদ্মবেশ ধারণ করেন বজরংবলী।
পরাক্রমী ভীম বনাম বৃদ্ধ বানরের লেজ
বনের পথে ভীম দেখলেন, এক বৃদ্ধ বানর অলসভাবে শুয়ে আছে এবং তার লম্বা লেজটি পুরো রাস্তা আটকে রেখেছে। অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সাথে ভীম বানরটিকে লেজ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ছদ্মবেশী হনুমান বিনীতভাবে বলেন, “হে বীর, আমি বৃদ্ধ ও অসুস্থ। আমার নড়ার শক্তি নেই। আপনিই দয়া করে লেজটি সরিয়ে পথ করে নিন।”
অহংকার যখন চূর্ণবিচূর্ণ:
ভীম প্রথমে অবজ্ঞার সাথে এক হাত দিয়ে লেজটি সরাতে যান, কিন্তু অলৌকিকভাবে সেটি নড়ল না। এরপর তিনি দুই হাত দিয়ে শরীরের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেন। ঘামে ভিজে একাকার হয়েও তিনি বানরের লেজ এক ইঞ্চিও সরাতে পারেননি। তখনই ভীম বুঝতে পারেন, এ কোনো সাধারণ বানর নয়!
হনুমানজীর বিশ্বরূপ দর্শন
লজ্জিত ও বিস্মিত ভীম ক্ষমা চেয়ে বানরটির আসল পরিচয় জানতে চান। তখন পবনপুত্র হনুমান নিজ রূপে আবির্ভূত হন। তিনি বলেন, “হে ভাই ভীম! তুমি অধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাচ্ছ, কিন্তু তোমার মনে বাসা বেঁধেছে অহংকার। সেই মোহ কাটানোর জন্যই এই পরীক্ষা।”
ভীমের অনুরোধে হনুমান সেই বিশাল রূপ ধারণ করেন, যা দিয়ে তিনি একলাফে সমুদ্র পার হয়েছিলেন। তাঁর শরীর আকাশ স্পর্শ করল এবং তেজ ছিল লক্ষ সূর্যের মতো। যাওয়ার আগে তিনি ভীমকে আশীর্বাদ করেন এবং প্রতিজ্ঞা করেন যে, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি অর্জুনের রথের পতাকায় (কপিধ্বজ) আসীন থাকবেন।
জ্যৈষ্ঠ মাসের বিশেষ গুরুত্ব
বিশ্বাস করা হয়, জ্যৈষ্ঠ মাসের মঙ্গলবারগুলোতে যারা হনুমানজীর আরাধনা করেন এবং এই কাহিনী পাঠ করেন, তাদের জীবনের সব বাধা ও অহংকার দূর হয়। বজরংবলীর আশীর্বাদে শরীর ও মনে অসীম শক্তির সঞ্চার ঘটে।