৪৭ বছরের দীর্ঘ বনবাস শেষ! কানহার পাহাড়ে ফিরল বুনো মহিষের গর্জন, অসম থেকে এল বিশেষ উপহার

মধ্যপ্রদেশের প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য কানহা টাইগার রিজার্ভে আজ এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল প্রকৃতিপ্রেমীরা। দীর্ঘ ৪৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এশীয় বুনো মহিষ (Bubalus arnee) আবারও ফিরে এল তার পুরোনো বাসভূমি—সৌপখর পর্বতমালায়। মঙ্গলবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অসমের কাজিরাঙ্গা থেকে আনা চারটি মহিষকে বনের সুরক্ষিত ঘেরাটোপে মুক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব।

অসম থেকে কানহা: ২০০০ কিলোমিটারের মহাযাত্রা
এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি প্রাণী স্থানান্তর নয়, বরং দুই রাজ্যের বন্ধুত্বের এক অনন্য নজির। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই দুঃসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে। গত ১৯শে মার্চ থেকে ১০ই এপ্রিলের মধ্যে কাজিরাঙ্গা থেকে সাতটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মহিষ উদ্ধার করা হয়। তার মধ্যে প্রথম দফায় তিনটি মাদী ও একটি পুরুষ মহিষকে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে ২৫শে এপ্রিল রওনা করানো হয়। টানা ২০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২৮শে এপ্রিল ভোরে তারা পৌঁছায় কানহায়। যাত্রাপথে দুই রাজ্যের অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়েছেন।

কেন হারিয়ে গিয়েছিল এই প্রজাতি?
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের পর কানহায় আর বুনো মহিষের দেখা মেলেনি। চোরা শিকার, গবাদি পশুর রোগ সংক্রমণ এবং ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকা বাসস্থান—এই ত্রিবিধ কারণে মধ্যপ্রদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল এই বিরল প্রজাতি। আজ প্রায় পাঁচ দশক পর সেই হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করল বন বিভাগ।

পরিবেশের ভারসাম্যে বুনো মহিষের ভূমিকা
কেন এই প্রজাতিটি বনের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন:

তৃণভূমি ব্যবস্থাপনা: বুনো মহিষ লম্বা ঘাস খেয়ে ছোট করে দেয়, যা বারাসিংহা বা চিতল হরিণের মতো ছোট প্রাণীদের বসবাসের উপযোগী হয়।

খাদ্যশৃঙ্খল: বনের খাদ্যশৃঙ্খলে এই বৃহৎ তৃণভোজী প্রাণীটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

জীববৈচিত্র্য: এদের উপস্থিতি কানহার জঙ্গলকে বাস্তুসংস্থানগতভাবে আরও শক্তিশালী করবে।

আগামী দিনের পরিকল্পনা
বন বিভাগের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে মোট ৫০টি বুনো মহিষকে কানহায় ফিরিয়ে আনা। বর্ষার আগেই আরও আটটি মহিষ আনার তোড়জোড় চলছে। বর্তমানে আসা চারটি মহিষকে সৌপখরের এক হেক্টরের একটি বিশেষ ‘বোমা’ (সংরক্ষিত ঘেরা এলাকা) রাখা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পর তাদের মুক্ত অরণ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: উদ্বোধন শেষে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব বলেন, “এটি মধ্যপ্রদেশের জন্য গর্বের মুহূর্ত। আমরা আমাদের হারানো সম্পদ ফিরে পেয়েছি। কানহা এখন এই বন্য মহিষদের নিরাপদ আশ্রয়। এই উদ্যোগ কেবল পর্যটকদের টানবে না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিশ্বজুড়ে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”