‘স্যাম অল্টম্যান নন, উনি আসলে স্ক্যাম অল্টম্যান!’ ওপেনএআই কর্তাকে ধুয়ে দিলেন ইলন মাস্ক, শুরু তুমুল আইনি লড়াই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) দুনিয়ায় মহাযুদ্ধ! ওপেনএআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক এবার সরাসরি আদালতের দরজায় টেনে আনলেন সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যানকে। ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে শুরু হওয়া এই মামলাকে কেন্দ্র করে এখন সরগরম গোটা বিশ্ব। মাস্কের দাবি, জনকল্যাণের মুখোশ পরে আদতে শত শত কোটি ডলারের ব্যক্তিগত মুনাফা লুটছে চ্যাটজিপিটি-র নির্মাতা সংস্থাটি।

মাস্কের তোপ: ‘স্ক্যাম অল্টম্যান’ ও ‘গ্রেগ স্টকম্যান’
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মাস্ক। তিনি স্যাম অল্টম্যানকে ‘স্ক্যাম অল্টম্যান’ এবং গ্রেগ ব্রকম্যানকে ‘গ্রেগ স্টকম্যান’ বলে কটাক্ষ করেছেন। মাস্কের মূল অভিযোগ হলো:

নীতি বিচ্যুতি: ওপেনএআই একটি অলাভজনক (Non-profit) সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, বর্তমানে তারা স্রেফ লাভের পেছনে ছুটছে।

ব্যক্তিগত সুবিধা: গ্রেগ ব্রকম্যান শত শত কোটি ডলারের স্টক পকেটে পুরেছেন এবং স্যাম অল্টম্যান নিজের স্বার্থে একাধিক ব্যক্তিগত চুক্তি করেছেন।

মূল লক্ষ্য বিসর্জন: এআই-কে মানবতার কল্যাণে ব্যবহারের যে শপথ নিয়ে সংস্থাটি তৈরি হয়েছিল, তা এখন ধূলিসাৎ।

পাল্টা চ্যালেঞ্জ ওপেনএআই-এর
মাস্কের আক্রমণকে বিন্দুমাত্র রেয়াত করছে না ওপেনএআই। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মাস্ক নিজের এআই কোম্পানি ‘xAI’-এর পথ প্রশস্ত করতেই এই নোংরা রাজনীতি করছেন। ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা আদালতকে জানাবে যে এটি আসলে বাজার থেকে প্রতিযোগিতা মুছে ফেলার একটি ষড়যন্ত্র। এমনকি তারা ইলন মাস্ককে কাঠগড়ায় তুলে শপথের অধীনে কড়া জেরার মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ?
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা এই শুনানির ওপর নির্ভর করছে এআই শিল্পের ভবিষ্যৎ। আদালতের নজর থাকবে তিনটি প্রধান দিকে:
১. ওপেনএআই-এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কি বৈধ?
২. মাইক্রোসফটের সাথে তাদের কয়েক বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের আসল স্বরূপ কী?
৩. চ্যাটজিপিটি-র মতো সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য এআই পরিষেবাগুলো কি শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হবে?

উপসংহার: যদি আদালত মাস্কের পক্ষে রায় দেয়, তবে ওপেনএআই-এর পুরো ব্যবসায়িক মডেল ভেঙে পড়তে পারে। আর যদি স্যাম অল্টম্যান জয়ী হন, তবে সিলিকন ভ্যালিতে তাঁর একাধিপত্য আরও জোরালো হবে। এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফল কেবল চ্যাটজিপিটি নয়, গোটা বিশ্বের প্রযুক্তির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।