১৫০ বছর পর ফিরল হারানো সম্পদ! কানহা টাইগার রিজার্ভে এবার রাজত্ব করবে বুনো মহিষ

২৮শে এপ্রিল মধ্যপ্রদেশের বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্রের ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা দিন হিসেবে চিহ্নিত হলো। দীর্ঘ দেড়শ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের কানহা টাইগার রিজার্ভে পুনরায় ফিরে এল বুনো মহিষ। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব এদিন বালাঘাট জেলার সৌপখর-তোপলা এলাকায় একটি পুরুষ ও তিনটি স্ত্রী মহিষকে জঙ্গলে অবমুক্ত করেন।

আসামের সঙ্গে গড়ে উঠল নতুন সেতুবন্ধন:
এই বুনো মহিষগুলিকে আসামের কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “গত বৈঠকে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বুনো মহিষ ও গণ্ডার আনার বিষয়ে যে আলোচনা হয়েছিল, আজ তার প্রথম পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হলো।”

বাস্তুতন্ত্র ও পর্যটনে বিপ্লব:
কানহায় এই নতুন অতিথিদের আগমন শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করবে না, বরং রাজ্যের পর্যটন শিল্পকেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে:

পর্যটনের প্রসার: বুনো মহিষ পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।

কর্মসংস্থান: পর্যটক বাড়লে স্থানীয় মানুষের আয়ের উৎস ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

বন সমৃদ্ধি: বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির পুনরুদ্ধারে মধ্যপ্রদেশ এখন সারা দেশে নজির সৃষ্টি করছে।

বন্যপ্রাণীর স্বর্গরাজ্য মধ্যপ্রদেশ:
চিতা ও চিতাবাঘের পর মধ্যপ্রদেশ এখন শকুনের রাজ্যেও পরিণত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গর্বের সাথে জানান যে, রাজ্যে কুমির, ঘড়িয়াল ও নেকড়ের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কুনো ন্যাশনাল পার্কে চিতার সফল পুনর্বাসনের পর বুনো মহিষের এই প্রত্যাবর্তন রাজ্যের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের মুকুটে আরও একটি পালক যোগ করল।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপহার:
মুখ্যমন্ত্রী ডঃ যাদব বলেন, “সরকার কেবল পরিকাঠামো নয়, বাস্তুতন্ত্র নিয়েও কাজ করছে। শত শত বছর আগে যা হারিয়ে গিয়েছিল, তা আজ ফিরে আসছে। মা কামাখ্যার আশীর্বাদে এই তরুণ মহিষগুলি আমাদের বনকে আরও সমৃদ্ধ করবে, যার সুফল ভোগ করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।”

এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশ আবারও প্রমাণ করল যে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তারা ভারতের অন্যতম অগ্রগণ্য রাজ্য। কানহার গহীন জঙ্গলে এখন থেকে বাঘের গর্জনের পাশাপাশি শোনা যাবে বুনো মহিষের পদধ্বনিও।