এক ধাক্কায় ১,৩০০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল! ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হলো নতুন ‘শুদ্ধি অভিযান’

ইরান যুদ্ধের লেলিহান শিখা নিভলেও তার রেশ কাটেনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। এবার উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিল করার এক বিতর্কিত ও নজিরবিহীন প্রবণতা শুরু হয়েছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে কুয়েত ও বাহরাইন সম্মিলিতভাবে এক হাজারেরও বেশি মানুষের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
কুয়েতে বড়সড় ‘সাফাই অভিযান’:
নিউজ আরবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েত সরকার রবিবার একযোগে ১,২৬৬ জন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। এই তালিকায় যেমন সাধারণ মানুষ রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। যাঁদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে আছেন:
আহমেদ আল-তারাবুলসি: কুয়েতের প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার।
আল-ফিকর: দেশের প্রাক্তন সাংসদ।
আব্দুল আজিজ আল-সারি: প্রখ্যাত লেখক।
কুয়েত প্রশাসনের দাবি, যারা মূলত বিয়ের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছিলেন কিন্তু প্রকৃত অর্থে কুয়েতি নন, তাঁদেরই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণার আসল উদ্দেশ্য ইরান-পন্থীদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করা।
রাজার আদেশে বাহরাইনে কড়াকড়ি:
কুয়েতের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বাহরাইন সরকার ৬৯ জন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের সিলমোহর দেয়। বাহরাইনের দাবি, সরাসরি রাজার আদেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ইরান যুদ্ধের সময় বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় এই ব্যক্তিরা উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন। শিয়া-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে সুন্নি নেতৃত্বাধীন সরকার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কড়া বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিপজ্জনক যুগের সূচনা?
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে মনে করছে। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ‘বাহরাইন ইনস্টিটিউট ফর রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসির’ পরিচালক সায়েদ আহমেদ আলওয়াদাই বলেন, “এটি একটি বিপজ্জনক যুগের সূচনা। সরকার এখন নিজেদের খেয়ালখুশিমতো যেকোনো নাগরিককে রাষ্ট্রহীন করে দিতে পারছে।”
উপসংহার:
নাগরিকত্ব বাতিলের এই তালিকায় নারী ও শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের পরবর্তী এই ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।