১০ হাজার টাকার লোভে বিসর্জন মন্ত্রীর বাড়ির জামাই হওয়া! ঘুষ নিতে গিয়ে শ্রীঘরে হবু বর

কথায় বলে, ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’। উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলার এক সাব-ইন্সপেক্টরের ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি আক্ষরিক অর্থেই সত্য প্রমাণিত হলো। মাত্র কয়েক হাজার টাকার ঘুষের লালসা শুধু তাঁর কর্মজীবনই নয়, ধ্বংস করে দিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং আভিজাত্যের স্বপ্নও।

মন্ত্রীকন্যার সঙ্গে বিয়ের স্বপ্নভঙ্গ:
আগামী ৫ই মে উত্তর প্রদেশ সরকারের এক প্রভাবশালী ক্যাবিনেট মন্ত্রীর ভাইঝির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ ব্যাচের সাব-ইন্সপেক্টর ছত্রপাল সিংয়ের। পল্লবপুরম থানায় কর্মরত এই অফিসারের বাড়িতে তখন বিয়ের সানাই বাজার প্রস্তুতি তুঙ্গে। কিন্তু এক নিমেষেই সব আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো। দুর্নীতির অভিযোগে হবু বর এখন শ্রীঘরে, আর সেই খবর কানে পৌঁছানো মাত্রই বিয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে মন্ত্রীর পরিবার।

দুর্নীতির নেপথ্য কাহিনি:
ঘটনার সূত্রপাত একটি এনডিপিএস (মাদক) মামলাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই মামলার অভিযুক্ত সীমা নামের এক নারীর নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন ছত্রপাল। জানা গেছে, এর আগে তিনি ১ লক্ষ টাকা নিলেও কাজ সম্পন্ন করেননি। পুনরায় ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে দীর্ঘ দর কষাকষির পর ১০ হাজার টাকায় রফা হয়।

অ্যান্টি করাপশন ব্যুরোর জাল:
ভুক্তভোগী নারী আগেভাগেই মিরাট দুর্নীতি দমন শাখা বা অ্যান্টি করাপশন টিমকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছত্রপাল যখনই ওই নারীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকার ঘুষের নোট হাতে নেন, ওত পেতে থাকা টিমের সদস্যরা তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন। এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

শোকের ছায়া ও অনুশোচনা:
যে বাড়িতে বিয়ের উৎসবের রোশনাই থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই শূন্যতা। কয়েদি গাড়িতে ওঠার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ছত্রপাল। নিজের ভুলের জন্য বারবার অনুশোচনা করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। একজন সরকারি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর বাড়ির জামাই হওয়ার সুযোগ এবং সম্মান—সবই এখন অতীত।

পুলিশ বিভাগ সূত্রে খবর, ছত্রপাল সিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এক লহমায় জীবন কতটা বদলে যেতে পারে, মিরাটের এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।