ধূপগুড়িতে হাড়হিম করা কাণ্ড! রেললাইনের ধারে প্রৌঢ়ের গলাকাটা দেহ উদ্ধার, নেপথ্যে কি সরকারি জমানো টাকা?

মঙ্গলবার সকালে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে এক প্রৌঢ়ের গলাকাটা দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম রমণী রায় (৬৫)। ধূপগুড়ি পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্মণপাড়া এলাকায় রেললাইনের ধার থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, এটি স্রেফ দুর্ঘটনা নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় করা একটি পরিকল্পিত খুন।
খুন নাকি দুর্ঘটনা? ঘনীভূত রহস্য
স্থানীয় বাসিন্দারা সকালে রেললাইনের ধারে রমণী রায়ের দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও আরপিএফ (RPF)-কে খবর দেন। দেহের অবস্থা দেখে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।
পরিবারের দাবি: মৃতের ছেলে চিরঞ্জিত রায় এবং ভাইপো তাপস রায়ের দাবি, রেলে কাটা পড়লে দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত। কিন্তু রমণী বাবুর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গলায় গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।
পঞ্চায়েত সদস্যের বক্তব্য: স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য গৌরী রায় অধিকারী জানান, দেহটি অক্ষত কিন্তু গলাকাটা, যা দেখে স্পষ্ট মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
কাল হলো কি জমি অধিগ্রহণের টাকা?
৬৫ বছর বয়সী রমণী রায় এলাকায় একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ ও কীর্তন গায়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানপাড়া এলাকার এই বাসিন্দার পরিবারের সদস্য সংখ্যাও বেশ বড়। সূত্রের খবর, সম্প্রতি ফোর-লেন রাস্তার জন্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করায় রমণী রায় বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন। সেই বিপুল অর্থের লোভেই কি তাঁকে খুন করা হয়েছে? পুলিশ এই সম্ভাবনাটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।
নিখোঁজ ছিলেন রাত থেকেই
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত থেকেই বাড়ির বাইরে ছিলেন রমণী রায়। তিনি মাঝেমধ্যেই কীর্তনের অনুষ্ঠানে গিয়ে পরিচিতদের বাড়িতে রাত কাটাতেন বলে বাড়ির লোক প্রথমে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। কিন্তু সকালে তাঁর মৃত্যুসংবাদ আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা গ্রাম।
পুলিশি তদন্ত
ধূপগুড়ি থানার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। এটি স্রেফ ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্য নাকি পারিবারিক কোনো বিবাদ, তা তদন্তের পরেই পরিষ্কার হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।