অবসরের মুখেই বিরাট উপহার! রাজ্য পুলিশের ডিজির মেয়াদ বৃদ্ধি, ভোটের ময়দানে মাস্টারস্ট্রোক?

হাতে সময় ছিল মাত্র ৭২ ঘণ্টা। আগামী তিন দিন পরেই রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (DG) পদ থেকে অবসর নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে কোনো ঝুঁকি নিল না নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশের বর্তমান ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তার (Siddh Nath Gupta) চাকরির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়িয়ে দেওয়া হলো।
সোমবার নবান্ন ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে এই খবর সামনে আসতেই রাজ্য প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হওয়ার পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভারসাম্য বজায় রাখতে তৎকালীন ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। সেই জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দক্ষ আইপিএস অফিসার সিদ্ধনাথ গুপ্তাকে।
-
অভিজ্ঞতায় ভরসা: মাঝপথে নতুন কাউকে ডিজি পদে আনলে ভোটের নিরাপত্তা বলয় বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করছে কমিশন।
-
নির্বাচনী ধারাবাহিকতা: প্রথম দফার ভোট শেষ হয়েছে, সামনেই দ্বিতীয় দফার হেভিওয়েট লড়াই। এই অবস্থায় পুলিশি নেটওয়ার্কের শীর্ষে কোনো রদবদল চায়নি দিল্লি।
-
বিশেষ ক্ষমতা: কেন্দ্র ও কমিশনের বিশেষ সম্মতিতে অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলস প্রয়োগ করে তাঁর এই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
চ্যালেঞ্জের মুখে ডিজি
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতার একাংশের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় ভোট সামলানোই এখন সিদ্ধনাথ গুপ্তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বিরোধীদের পক্ষ থেকে আসা পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এবং শাসকদলের প্রত্যাশা— এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে নিরপেক্ষ ভোট করানোই হবে তাঁর অ্যাসিড টেস্ট।
রাজনৈতিক মহলে চর্চা
অবসরের ঠিক তিন দিন আগে মেয়াদ বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও কম নেই।
-
বিজেপির দাবি: “ভোটের প্রক্রিয়া চলাকালীন দক্ষ অফিসারদের থেকে যাওয়াটা জরুরি, যাতে কেউ পক্ষপাতিত্ব না করতে পারে।”
-
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: “এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, তবে কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে যে স্বচ্ছতা বজায় থাকছে।”
এক নজরে সিদ্ধনাথ গুপ্তা: ১৯৮৮ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার এর আগে আইবি (IB) এবং এডিজি পদ সামলেছেন। তাঁর মেয়াদের এই ৬ মাস বৃদ্ধি রাজ্যের পুলিশি ইতিহাসে এক অনন্য নজির হয়ে থাকল।
ডেইলিয়ান্টের পাঠকদের জন্য এই মুহূর্তে এটিই রাজ্যের প্রশাসনিক বড় খবর। ভোটের ময়দানে সিদ্ধনাথ গুপ্তার এই ‘সেকেন্ড ইনিংস’ কতটা ফলদায়ক হয়, এখন সেটাই দেখার।