“সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক পোস্ট!”-ভোটের মুখে বড় শাস্তি পুলিশের কনস্টেবলকে

নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় পদক্ষেপ করল লালবাজার। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক পোস্ট করার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের এক কনস্টেবলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। সোমবার কলকাতা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত কে এবং কী তাঁর অপরাধ?

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীর নাম রামকৃষ্ণ কয়াল। তিনি কলকাতা আর্মড পুলিশের ১ম ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে বেশ কিছু বিতর্কিত ভিডিও পোস্ট করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর কমেন্ট এবং পোস্টে সরাসরি রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছিল, যা সরকারি চাকরির আচরণবিধি (Service Rules) এবং নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধির (MCC) চরম লঙ্ঘন।

লালবাজারের কড়া বার্তা

কলকাতা পুলিশের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, “তদন্ত চলাকালীন ওই কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের মতো নিরপেক্ষ পেশায় থেকে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থন বা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

সাসপেনশনের নিয়ম অনুযায়ী:

  • রামকৃষ্ণ কয়ালকে তাঁর সরকার-প্রদত্ত সমস্ত সামগ্রী রিজার্ভ অফিসারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

  • সাসপেনশন চলাকালীন তিনি নিয়মানুযায়ী মূল বেতনের অর্ধেক এবং অন্যান্য ভাতা পাবেন।

পুলিশ কর্মীদের জন্য নতুন গাইডলাইন

এই ঘটনার পরেই কলকাতা পুলিশের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বাহিনীর সমস্ত স্তরের কর্মীদের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করেছে লালবাজার। স্পষ্ট জানানো হয়েছে:

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কোনও পোস্ট, শেয়ার বা রিঅ্যাকশন দেওয়া যাবে না যা চাকরির নিয়মভঙ্গ করে।

  • নির্বাচনের এই স্পর্শকাতর সময়ে প্রতিটি পুলিশ কর্মীকে কঠোর নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

  • অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাহিনীর ইমেজ নষ্ট হয় এমন কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোটের ডিউটি ও নিরাপত্তার মাঝখানে খোদ পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।