ল্যাপটপের ক্যামেরা লুকিয়ে অন রাখতেই ফাঁস স্ত্রীর আসল রূপ! ‘পুরুষ নির্যাতন’ নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া

ঘরোয়া হিংসা মানেই কি শুধু নারীদের ওপর অত্যাচার? সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও এই চিরাচরিত ধারণা ও আইনি সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক নারী তাঁর স্বামীকে চরমভাবে শারীরিক নিগ্রহ করছেন। যা নিয়ে এখন নেটপাড়ায় নিন্দার ঝড়।
ল্যাপটপের ক্যামেরায় ধরা পড়ল ‘নরক’
ভাইরাল ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মাঝেই ওই মহিলা তাঁর স্বামীকে সপাটে চড় মারছেন এবং বারবার তাঁর চুল ধরে টানাটানি করছেন। জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে ওই ব্যক্তি স্ত্রীর হাতে নিয়মিত লাঞ্ছিত হয়ে আসছিলেন। কোনও উপায় না দেখে অবশেষে সত্য সামনে আনতে নিজের ল্যাপটপের ক্যামেরা লুকিয়ে অন করে রাখেন তিনি। আর তাতেই ধরা পড়ে যায় বৈবাহিক জীবনের এই অন্ধকার দিক। এক নেটিজেন ভিডিওটি শেয়ার করে সতর্কবাণী দিয়েছেন— “বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে দুবার ভাবুন।”
বিতর্কের কেন্দ্রে ‘বাঙালি নারী’ ও নারীবাদ
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই কমেন্ট সেকশনে প্রতিক্রিয়ার বন্যা বয়ে গিয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত, এই ব্যক্তিগত অপরাধকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে কদর্য আঞ্চলিক বিদ্বেষ।
কিছু নেটিজেন পশ্চিমবঙ্গের মেয়েদের জড়িয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
পাল্টা প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সচেতন নাগরিকরা; তাঁদের দাবি, অপরাধীর পরিচয় শুধু ‘অপরাধী’ই হওয়া উচিত, সেখানে জাতি বা আঞ্চলিক পরিচয় টানা অনুচিত।
প্রশ্ন উঠেছে তথাকথিত নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়েও। অনেকেই একে ‘পুরুষের ওপর গার্হস্থ্য সন্ত্রাস’ বলে অভিহিত করেছেন।
লিঙ্গ-নিরপেক্ষ আইনের দাবি
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক লজ্জা এবং আইনি জটিলতার ভয়ে পুরুষরা সচরাচর ঘরোয়া হিংসা নিয়ে মুখ খুলতে পারেন না। এই ভিডিওটি সেই অদৃশ্য যন্ত্রণাকেই সামনে এনেছে। বর্তমানে নেটিজেনদের একাংশ ‘জেন্ডার নিউট্রাল’ বা লিঙ্গ-নিরপেক্ষ আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জোরালো সওয়াল শুরু করেছেন।
বিয়ের মতো পবিত্র সামাজিক বন্ধন কেন এমন হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তিত বিশেষজ্ঞ মহল। আপাতত ওই দম্পতির পরিচয় এবং ঘটনার সঠিক অবস্থান জানতে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তবে এই ভিডিওটি যে বৈবাহিক সম্পর্কের এক তিক্ত বাস্তবকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।