স্ত্রীকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ঘরে ডাকলেন ‘কাকা’, তারপর যা হলো… লজ্জায় মাথা নত করছে সমাজ

রাজস্থানে নারী নিরাপত্তা নিয়ে যখন দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রতিবেশী রাজ্য গুজরাটের মহিসাগর জেলা থেকে এল এক চরম লজ্জাজনক ও পাশবিক খবর। নিজের ২৬ বছর বয়সী বিশেষভাবে সক্ষম (মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী) ভাইঝিকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো ৭০ বছরের এক বৃদ্ধকে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে লুনাওয়াড়া শহরে, যা সামাজিক নৈতিকতার অবক্ষয়কে ফের প্রকাশ্যে এনেছে।
পরিকল্পিত পাশবিকতা
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক শিউরে ওঠা চিত্র। অভিযুক্ত ওই বৃদ্ধ নির্যাতিতার প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে কাকা হন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন তরুণীটি বাড়িতে একাই ছিলেন। সেই সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত বৃদ্ধ স্ত্রীকে কৌশলে বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দেন। এরপর তরুণীটিকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি জানাজানি হলে তরুণীকে ভয়ংকর পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়।
সাহস দেখালেন নির্যাতিতা
বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ায় প্রথমে আতঙ্কিত থাকলেও, পরে সাহস সঞ্চয় করে মায়ের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন ওই তরুণী। মেয়ের ওপর হওয়া এই বর্বরোচিত অত্যাচারের কথা শুনেই পরিবারটি লুনাওয়াড়া থানার দ্বারস্থ হয়। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ওই বৃদ্ধকে পাকড়াও করে।
আইনি পদক্ষেপ
স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন:
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ দমন শাখা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
ধৃতকে আদালতে তোলা হলে তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
নির্যাতিতার জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সামাজিক ক্ষোভ: যে বয়সে প্রবীণদের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করার কথা, সেই বয়সে এমন বিকৃত মানসিকতার প্রকাশে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বারবার বিশেষভাবে সক্ষম নারীরা যেভাবে নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন, মহিসাগর জেলার এই ঘটনা ফের একবার নারী সুরক্ষা ও সামাজিক অবক্ষয়ের ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। পুলিশ গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।