“ঝুঁঠা হ্যায় তেরা ওয়াদা!” অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ সাগরিকা ঘোষের, ২৭ লক্ষ ভোটারের নামে তোলপাড়

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়ছে। প্রথম দফার ভোট মিটতেই দ্বিতীয় দফার আগে বড়সড় বোমা ফাটালেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। তাঁর সাফ প্রশ্ন— “রোহিঙ্গাদের তালিকা কোথায়?”
২৭ লক্ষ ভোটারের নাম গায়েব!
রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর দেখা গিয়েছে, প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেই সাগরিকা ঘোষের অভিযোগ:
প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে ৪৫ লক্ষ নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হলেও, এখনও ২৭ লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত।
তৃণমূলের দাবি, এর মধ্যে বড় অংশই সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ।
“অমিত শাহজি, সত্যিটা বলুন!”
এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে সাগরিকা ঘোষ বলেন, “ঝুঁঠা হ্যায় তেরা ওয়াদা! অমিত শাহজি, আপনার প্রতিজ্ঞা কোথায়?” তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি যদি দাবি করে যে রাজ্যে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা ঢুকেছে, তবে এই বাদ পড়া ২৭ লক্ষ মানুষের মধ্যে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী, তার তালিকা কেন্দ্র বা নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করছে না কেন?
অনুপ্রবেশ রাজনীতি ও তৃণমূলের পালটা চাল
সাগরিকা ঘোষের অভিযোগ, বিজেপি অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে স্রেফ রাজনীতি করছে। আদতে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো জেলাগুলিতে বেছে বেছে নাম কাটা হয়েছে বলে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি।
“যদি সত্যিই রোহিঙ্গা ঢুকে থাকে, তবে লুকোচুরি না খেলে জনসমক্ষে তালিকা দিন। জনতার কাছে মিথ্যে বলবেন না।” — সাগরিকা ঘোষ, তৃণমূল সাংসদ।
নির্বাচন কমিশন যদিও দাবি করেছে যে কেবল ডুপ্লিকেট, মৃত ব্যক্তি বা অযোগ্য ভোটারদের নামই সরানো হয়েছে, কিন্তু নির্বাচনের মুখে সাগরিকা ঘোষের এই “রোহিঙ্গা তালিকা”র দাবি বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এখন দেখার, শাহ-মোদীর তরফ থেকে এর কোনও পালটা জবাব আসে কি না।