ভাঙড়ে হুলুস্থুল! প্রচার থেকে ফেরার পথে সওকত মোল্লার ওপর হামলা, অভিযুক্ত নওশাদের দল?

প্রথম দফার ভোট মিটতেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাঙড়। প্রচার সেরে ফেরার পথে তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠল আইএসএফ (ISF) কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতভর বিজয়গঞ্জ থানা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল উত্তর চালতাবেড়িয়ায়?
তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার অভিযোগ, উত্তর চালতাবেড়িয়া এলাকায় একটি নির্বাচনী সভা সেরে ফেরার সময় আইএসএফ নেতা আবুল খয়েরের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁর ও তাঁর সহযোগীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ উঠেছে বোমাবাজি ও মারধরেরও। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিজয়গঞ্জ থানার সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কর্মীরা।
পাল্টা সাফাই আইএসএফ-এর
যদিও সওকত মোল্লার তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে নওশাদ সিদ্দিকীর দল। আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, হারের ভয়ে তৃণমূলই গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছে এবং তাঁদের কর্মীদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
কমিশনের ‘রেড জোন’ ও কড়া নিরাপত্তা
২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে এই অশান্তি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে নির্বাচন কমিশনের। এই দফার নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন।
রেড জোন ঘোষণা: ভাঙড়, ব্যারাকপুর, খানাকুল, কাকদ্বীপ ও আরামবাগের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলিকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশাল বাহিনী মোতায়েন: মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রায় ২২০০ থেকে ২৩০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কড়া নজরদারি ও অতিরিক্ত ‘এরিয়া ডমিনেশন’ শুরু হয়েছে।
ভাঙড়ের এই অশান্তি দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ভোটবাক্সে কী প্রভাব ফেলে এবং কমিশন শান্তি বজায় রাখতে কতটা সফল হয়, সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।