“গরমে পুড়ছে দেশ, ৪৫ ডিগ্রি ছুঁল পারদ!”-স্কুলে গরমের ছুটি কি তবে এগিয়ে আসছে?

ক্যালেন্ডারে মে মাস আসতে এখনও দেরি, কিন্তু এপ্রিলের শুরু থেকেই বাংলার পারদ ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। আসানসোলের মতো শিল্পাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি পার করেছে, উত্তর ভারতে তা পৌঁছতে পারে ৪৫ ডিগ্রিতে। এমন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তায় ঘুম উড়েছে অভিভাবকদের। প্রশ্ন উঠছে, ভারতে কি তবে স্কুলের গরমের ছুটির প্রথাগত সময় বদলে ফেলার সময় এসে গিয়েছে?
২০২২ থেকে বদলাচ্ছে ট্রেন্ড: ঐতিহ্যগতভাবে মে মাসেই গরমের ছুটি পড়ে ভারতে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, তাপপ্রবাহের চাপে এপ্রিলের শেষেই স্কুল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে একাধিক রাজ্য সরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে গরমকাল এখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক আগেই চরম আকার ধারণ করছে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পরিসংখ্যান: ২০২৬ সালের গ্লোবাল টেম্পারেচার র্যাঙ্কিং এক ভয়াবহ তথ্য সামনে এনেছে। বিশ্বের ১০০টি উষ্ণতম শহরের মধ্যে ৯৫টিই এখন ভারতে! মৌসম ভবন (IMD) ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের লাল সতর্কতা জারি করেছে। মুম্বইয়ের জিডি সোমানি মেমোরিয়াল স্কুলের প্রিন্সিপালের মতে, “আবহাওয়া এখন এতটাই অপ্রত্যাশিত যে ছুটির বিষয়টি বাস্তবসম্মতভাবে পুনর্বিবেচনা করা ছাড়া উপায় নেই।”
ছুটির পরিকাঠামোয় আমূল বদল চাই: শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শুধু গরমের ছুটি এগিয়ে আনা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং পুরো ছুটির ক্যালেন্ডারটিকেই নতুন করে সাজানো দরকার।
-
দক্ষিণ ভারত: এখানে গরমের ছুটি শুরু হয় এপ্রিলেই।
-
উত্তর ও পূর্ব ভারত: সাধারণত মে-র মাঝামাঝি ছুটি পড়ে। কিন্তু এখন দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোতে পড়ুয়াদের ক্লাসরুমে বসিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পড়ুয়াদের পড়াশোনার ক্ষতি না করে কীভাবে ‘সামার ব্রেক’ বা গরমের ছুটিকে আরও কার্যকরী করা যায়, তা নিয়ে নতুন নীতি তৈরির দাবি উঠছে।
স্কুল ক্যালেন্ডারের এই ২৫০ দিনের ধরাবাঁধা রুটিন কি জলবায়ু সংকটের সামনে হার মানতে চলেছে? এখন সেটাই দেখার।