নিজের পাতা জালেই ফেঁসে গেলেন রাঘব? ‘আপ’ ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দিতেই কেন চর্চায় পুরনো সেই বিল!

জাতীয় রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ! দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে বড় ধাক্কা দিয়ে ৬ জন রাজ্যসভা সাংসদকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিলেন একসময়ের ‘আপ’ কান্ডারি রাঘব চাড্ডা। রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৭ জনই এখন গেরুয়া শিবিরে। ফলে আইনি মারপ্যাঁচে দলত্যাগ-বিরোধী আইন থেকেও কার্যত পার পেয়ে গেলেন রাঘব ও তাঁর সঙ্গীরা।

কেন বাতিল হবে না সাংসদ পদ?
সংবিধানের ‘দশম তফসিল’ অনুযায়ী, কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি একসঙ্গে দলবদল করেন, তবে তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হয় না। রাজ্যসভায় ‘আপ’-এর ১০ জন সাংসদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৭ জন সাংসদ (রাঘব সহ) একযোগে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় আইনিভাবেই তাঁরা সুরক্ষিত। অর্থাৎ, তাঁরা এখন থেকে বিজেপির সাংসদ হিসেবেই গণ্য হবেন।

নিজের বিলেই কি আটকে যেতেন রাঘব?
মজার বিষয় হলো, ২০২২ সালে রাঘব চাড্ডা নিজেই সংসদে একটি সংশোধনী বিল এনেছিলেন। সেখানে তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন:

দলত্যাগের জন্য ‘দুই-তৃতীয়াংশ’ নয়, বরং ‘তিন-চতুর্থাংশ’ সদস্যের সমর্থন লাগবে।

দলত্যাগীদের পরবর্তী ৬ বছর নির্বাচনে লড়া নিষিদ্ধ করতে হবে।
যদি চাড্ডার সেই বিল পাশ হতো, তবে আজ দলবদলের জন্য তাঁর প্রয়োজন হতো ৮ জন সাংসদ এবং তিনি নিজেও ৬ বছরের জন্য ভোটে লড়তে পারতেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের প্রস্তাবিত সেই কঠোর আইন আজ পাশ না হওয়ায় ‘শাপে বর’ হয়েছে রাঘবের জন্য।

পুরস্কার হিসেবে কি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্ব?
সূত্রের খবর, নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের সমালোচনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পুরস্কার হিসেবে রাঘব চাড্ডাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। গত ২ এপ্রিল তাঁকে রাজ্যসভায় দলের উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল ‘আপ’। সেই থেকেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল, যা শেষমেশ এই বড় দলবদলে রূপ নিল।

কেজরিওয়ালের এক লাইনের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর এক্স (X) হ্যান্ডেলে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, “বিজেপি আবারও পাঞ্জাবের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল।” উল্লেখ্য, সামনেই পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাঘব চাড্ডার মতো চাণক্যের প্রস্থান পাঞ্জাবে ‘আপ’-এর ভিত নাড়িয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

অস্তিত্বের সঙ্কটে আম আদমি পার্টি
মাত্র ১৫ বছরের কম বয়সী একটি দলের জন্য এটি কার্যত মরণবাঁচন লড়াই। একদিকে দিল্লির বিধায়ক আলে ইকবালের মতো নেতাদের অসন্তোষ, অন্যদিকে গুজরাট ও পাঞ্জাবে সাংগঠনিক ধস—সব মিলিয়ে কেজরিওয়ালের সামনে এখন অন্ধকারের মেঘ। দল যদিও এই সাতজনের সদস্যপদ খারিজের দাবি তুলেছে, তবে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের ওপরই এখন ঝুলে রয়েছে আপ-এর ভাগ্য।