অদিতি মুন্সির সম্পত্তিতে ৪ গুণ লাফ! ‘কীর্তন’ না ‘রাজনীতি’— কিসে এত লক্ষ্মীলাভ? বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলল বিজেপি!

গায়িকা হিসেবে তিনি ঘরে ঘরে জনপ্রিয়। তাঁর ভক্তিমূলক গানের সুরে মুগ্ধ অগুনতি মানুষ। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে পা দিতেই সেই অদিতি মুন্সির (Aditi Munshi) সম্পত্তির খতিয়ান নিয়ে শুরু হলো চরম বিতর্ক। ২০২১ থেকে ২০২৬— এই পাঁচ বছরে তৃণমূল বিধায়িকার সম্পত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪ গুণ! আর এই হলফনামা ঘিরেই এখন দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছে বিজেপি।

লক্ষ্মীলাভের খতিয়ান: ৫ বছরে ৪ গুণ বৃদ্ধি!

অদিতি মুন্সির পেশ করা নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭১০ টাকা। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৫৭ টাকা। গায়িকার মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৪২ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৫৭ টাকা। যার মধ্যে রয়েছে:

  • নগদ: ২ লক্ষ টাকা।

  • স্বর্ণালঙ্কার: ৩৫০ গ্রাম সোনা (মূল্য প্রায় ৫২.৫ লক্ষ টাকা)।

  • বিলাসবহুল গাড়ি: মহিন্দ্রা জাইলো, টয়োটা ফরচুনার এবং জিপ মেরিডিয়ান।

স্বামীর সম্পত্তিও পিছিয়ে নেই। অদিতির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর আয় এই কয়েক বছরে ৭ লক্ষ ৯৮ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৪ লক্ষ ২১ হাজার টাকা।

বিজেপির ‘বিস্ফোরক’ অভিযোগ: তথ্য গোপন?

বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে অদিতির সম্পত্তি নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অদিতি ও তাঁর স্বামী সঠিক হিসেব দেননি।

মূল অভিযোগ: জগদীশপুর মৌজায় অদিতির নামে থাকা জমির কোনো উল্লেখ নেই হলফনামায়।

সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে অর্থাৎ ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে কালিম্পং ও রাজারহাটের বেশ কিছু বড় সম্পত্তি তড়িঘড়ি হস্তান্তর বা উপহার হিসেবে দান করা হয়েছে। তরুণজ্যোতি প্রশ্ন তুলেছেন, “একই দিনে এতগুলো প্রপার্টি ট্রান্সফার কেন? কারা এই মানস পাত্র ও মানবী পাত্র যাদের কাছে এই সম্পত্তি গেল?”

মুখ আর মুখোশ বিতর্ক

রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় না হলেও গায়িকা হিসেবে অদিতির স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তৃণমূলের বড় সম্পদ ছিল। কিন্তু ভোটের আগে এই কোটি টাকার সম্পত্তির হিসেব এবং ‘গোপন’ জমি বিক্রির অভিযোগ তাঁর সেই ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিজেপি একে সরাসরি “মুখ আর মুখোশ”-এর লড়াই বলে আখ্যা দিয়েছে।

একদিকে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি, অন্যদিকে কয়েক লক্ষ টাকার ঋণ— সব মিলিয়ে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে এবার গানের সুরের চেয়েও দুর্নীতির অভিযোগের গর্জন অনেক বেশি জোরালো হতে চলেছে।