গোবলয় জয় করে এবার লক্ষ্য বাংলা! হিমন্ত বিশ্ব শর্মার গুরুত্ব বৃদ্ধিতে কি সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিরোধীরা?

কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে আসা মানেই কি হারিয়ে যাওয়া? হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) প্রমাণ করে দিয়েছেন, প্রতিভা আর রণকৌশল থাকলে গেরুয়া শিবিরেও মধ্যমণি হওয়া যায়। উত্তর-পূর্ব ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে হিমন্তের ‘অসম মডেল’ এখন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সাফল্যের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
হিমন্তের ‘ম্যাজিক’: ওড়িশা ও বিহারে সাফল্য
সাম্প্রতিক নির্বাচনে হিমন্তের রণকৌশল বিজেপিকে বড় জয় এনে দিয়েছে। ওড়িশায় অভাবনীয় উত্থান থেকে শুরু করে বিহারে নীতীশ কুমারকে পিছনে ফেলে বিজেপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাইয়ে দেওয়া— নেপথ্যে ছিল হিমন্তের মস্তিষ্ক। বিহারে এখন বিজেপির সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকলেও, তার ভিত গড়ে দিয়েছেন হিমন্তই।
বাংলার ভোট ময়দানে হিমন্তের হুঙ্কার
বর্তমানে বাংলা দখলের লড়াইয়ে মোদী-শাহের তুরুপের তাস অসমের মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঁচাছোলা আক্রমণ, অন্যদিকে হিমন্তের পাল্টা কড়া বাগ্মিতা— বাংলাজুড়ে দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করতে তাঁকে উত্তর-পূর্বের সীমানা ছাড়িয়ে বারবার এ রাজ্যে নিয়ে আসছে দিল্লি।
কেন হিমন্ত আলাদা?
-
প্রশাসনিক আগ্রগতি: ‘অসম মডেল’-এর মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা।
-
তীব্র বাগ্মিতা: বিরোধী বিশেষ করে তৃণমূল ও কংগ্রেসকে একহাত নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা।
-
সংগঠন ও রণকৌশল: গোবলয়ের বাইরেও ভোটারদের মানসিকতা বুঝে সংগঠন মজবুত করা।
এবার কি কেন্দ্রীয় সংগঠনে বড় বদল?
রাজনৈতিক মহলে প্রবল জল্পনা, হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে আর কেবল অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না বিজেপি। তাঁকে সর্বভারতীয় স্তরে বড় কোনো সাংগঠনিক দায়িত্ব বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হতে পারে। গোবলয়ের বাইরের কোনো নেতার এভাবে দিল্লির অন্দরে প্রভাব বিস্তার করা গেরুয়া রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।