“তৃণমূলকে কষিয়ে থাপ্পড় মেরেছে সুপ্রিম কোর্ট!” আইপ্যাক ইস্যুতে মমতাকে তুলোধোনা মোদির!

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ সপ্তমে চড়িয়ে এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’ আইপ্যাক (I-PAC)-কে লক্ষ্যভেদ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে তৃণমূল সরকারকে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, আইপ্যাক কাণ্ডে তৃণমূলকে রীতিমতো “থাপ্পড়” মেরেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
আইপ্যাক বিতর্ক ও মমতার উপস্থিতি: ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আইপ্যাকের অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে হানা দেয় ইডি (ED)। অভিযোগ ওঠে, তল্লাশি চলাকালীন আচমকা সেখানে হাজির হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির অভিযোগ ছিল, মুখ্যমন্ত্রী সেখান থেকে ল্যাপটপ ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যান। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে আদালত কড়া পর্যবেক্ষণ দেয়, যা নিয়ে এদিন সরব হন মোদি।
মোদির আক্রমণাত্মক সুর: এদিন জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নাম না করে আইপ্যাক প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “এই নির্মম সরকার তদন্তকারী সংস্থার কাজেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তৃণমূল প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করছিল। কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলকে জোর থাপ্পড় মেরেছে। আদালত স্পষ্ট বলেছে, এই ধরনের কাজ গণতন্ত্রের জন্য মহাবিপদ।” প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রত্যেক দুর্নীতিবাজের পাই-পাই হিসেব নেবে বিজেপি সরকার।
আক্রান্ত তৃণমূলের পাল্টাসুর: অন্যদিকে, আইপ্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি এবং কর্মীদের ২০ দিনের ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে তুঙ্গে পৌঁছেছে রাজনৈতিক তরজা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন। তাঁর পাল্টা দাবি, “ভোটের সময় আমাদের একমাত্র এজেন্সিকে কাজ করতে বাধা দিচ্ছে বিজেপি। ওদের হাজারটা এজেন্সি দেশজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, লজ্জা করে না?”
স্লগ ওভারের লড়াই: ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগে একদিকে মোদির ‘হিসেব নিকেশ’-এর হুমকি, অন্যদিকে মমতার ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব—দুই মেরুর লড়াইয়ে এখন সরগরম বাংলার ভোটমেশিন। আগামী বুধবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট আইপ্যাক মামলায় নতুন কী মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।