“স্ট্রংরুমে লোডশেডিং কেন?” ভোটের মুখে ইভিএম কারচুপির ভয়ানক আশঙ্কা মমতার! তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

নির্বাচনের ষষ্ঠী-সপ্তমীর লগ্নে এবার ইভিএম (EVM) কারচুপির অভিযোগে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ক্যামাক স্ট্রিটের বরদান মার্কেটের জনসভা থেকে তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন। তাঁর আশঙ্কা, ভোট মেটার পর ইভিএম কব্জা করতে বিজেপি ‘কম্বল ও মুখোশ’ বাহিনী নামাচ্ছে।

ইভিএম লুঠের ‘ভয়ানক’ অভিযোগ

প্রচারের শেষ লগ্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী আজ কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইভিএম যেখানে রাখা হয়েছে (স্ট্রংরুম), সেখানে রহস্যজনকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। মমতার প্রশ্ন, “আমাদের রাজ্যে তো লোডশেডিং হয় না, তবে স্ট্রংরুমে কারেন্ট যাচ্ছে কেন? কারা কম্বল মুড়ি দিয়ে, মুখোশ পরে ইভিএম বদলানোর চেষ্টা করছে?” এই চক্রান্ত রুখতে দলীয় কর্মীদের কড়া পাহারায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পুলিশকে কড়া বার্তা: “৪ তারিখের পর আমরাই থাকব”

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় ছিল পুলিশ প্রশাসনের একাংশও। কমিশনের নির্দেশে যে সমস্ত অফিসাররা কাজ করছেন, তাঁদের নাম না করে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, ৪ জুনের পর কমিশন থাকবে না, বিজেপিও থাকবে না। আপনাদের চা-মিষ্টি কিন্তু আমরাই খাওয়াব। বিজেপির কথায় তৃণমূলের ওপর অত্যাচার করবেন না।”

ব্যবসায়ী মহলে সম্প্রীতির কার্ড

ক্যামাক স্ট্রিট ও বরদান মার্কেট এলাকা মূলত অবাঙালি ব্যবসায়ী প্রধান। সেই সমীকরণ মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী আজ গুজরাটি, মাড়োয়াড়ি ও শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি সম্প্রীতির বার্তা দেন।

  • জিএসটি আক্রমণ: কেন্দ্রের জিএসটি নীতিকে তুলোধনা করে তিনি দাবি করেন, মোদী সরকার ব্যবসায়ীদের পকেট কাটছে।

  • পৌরসভা কর: কলকাতা কর্পোরেশন ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো বাড়তি করের বোঝা চাপায়নি বলে মনে করিয়ে দেন তিনি।

ভোটার স্লিপ ও এনআরসি সতর্কতা

নাগরিকত্ব ইস্যুতে ভোটারদের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, “ভোট দেওয়ার পর ভোটার স্লিপের জেরক্স করে রাখুন। ওটা আপনার নাগরিকত্বের প্রমাণ। বিজেপি এনআরসি (NRC) করার ফন্দি আঁটছে।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, রাজ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছিল, যা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ফেরাতে হয়েছে।