ধস নামল নিফটিতে! ২৪,০০০-এর নিচে বাজার, সোমবার কি আরও রক্তক্ষরণ? বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫টি বড় সতর্কবার্তা!

বিনিয়োগকারীদের জন্য চলতি সপ্তাহটি একেবারেই সুখকর ছিল না। মূলত আইটি খাতের শেয়ারে ব্যাপক দরপতন এবং অটো ও কনজিউমার স্টকে বিক্রির চাপে নিফটি সূচক প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় নিফটি-৫০ সূচক ২৭৫ পয়েন্ট বা ১.১৪ শতাংশ হারিয়ে ২৩,৮৯৮ পয়েন্টে থিতু হয়েছে। সোমবার বাজার যখন পুনরায় খুলবে, তখন বেশ কিছু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু দাপট দেখাতে পারে।
১. ইরান-আমেরিকা সংঘাত ও বিশ্ববাজার
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন বাজারের প্রধান দুশ্চিন্তা। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজার বিধ্বস্ত। বিশেষজ্ঞ রূপক দে-র মতে, এই উত্তেজনার কারণেই সূচক চাপের মুখে রয়েছে এবং আপাতত প্রবণতা বেশ দুর্বল।
২. নজরে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক
আগামী মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নির্ধারণী বৈঠক। বুধবার ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সুদের হার ৩.৫০-৩.৭৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও, ফেড প্রধানের মন্তব্য শেয়ার বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।
৩. রেজাল্ট ক্যালেন্ডার: ২০০টি কোম্পানির ফলাফল
এই সপ্তাহে নিফটির তাবড় কিছু কোম্পানি তাদের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের (Q4) ফলাফল ঘোষণা করবে। যার মধ্যে রয়েছে:
হেভিওয়েট স্টক: মারুতি সুজুকি, আলট্রাটেক সিমেন্ট, আদানি পোর্টস, এইচইউএল এবং কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক।
অন্যান্য: আদানি পাওয়ার, বেদান্ত, বন্ধন ব্যাংক এবং ওয়ারি এনার্জি। এই ফলাফলগুলোর ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট স্টকগুলোতে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
৪. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পলায়ন (FII Selling)
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারত থেকে টাকা তুলে নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। গত পাঁচ সেশনে তাঁরা প্রায় ১৭,১৪০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। বিপরীতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো (DII) কেনাকাটা করলেও তা বাজারকে ধরে রাখতে পর্যাপ্ত ছিল না।
৫. তেলের দাম ও রুপির পতন
অপরিশোধিত তেলের মূল্যের অস্থিরতা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় মাথাব্যথা। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলার ছাড়ানোয় রুপির ব্যাপক পতন ঘটেছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে রুপি ৯৪.২৪-এ লেনদেন শেষ করেছে, যা ২০২২ সালের পর বড় সাপ্তাহিক পতন।
প্রযুক্তিগত সংকেত ও সাপোর্ট লেভেল
বাজার বিশ্লেষক অজিত মিশ্রের মতে, নিফটি এখন তার গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল ২৩,৯০০-এর নিচে।
সাপোর্ট: পরবর্তী বড় সাপোর্ট দেখা যাচ্ছে ২৩,৫০০ স্তরে।
রেজিস্ট্যান্স: বাজার ঘুরে দাঁড়াতে হলে সূচককে অবশ্যই ২৪,২০০-২৪,৫০০ স্তরের বাধা টপকাতে হবে।