বিহারের ভোলবদল! মুজাফফরপুরে ২০ হাজার একরে গড়ে উঠছে ‘মিনি সিঙ্গাপুর’, বন্ধ জমি কেনাবেচা!

বিহারের মুজাফফরপুর এবার এক আধুনিক মেগাসিটির রূপ নিতে চলেছে। রাজ্যে ১১টি নতুন ‘স্যাটেলাইট গ্রিনফিল্ড’ শহর গড়ার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা নীতিশ কুমার সরকার গ্রহণ করেছে, তার অধীনেই তৈরি হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘নিউ তিরহুত টাউনশিপ’। নগর উন্নয়ন ও আবাসন দফতর ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ করে প্রস্তাবনা জারি করেছে।
বিশাল এলাকা ও আধুনিক পরিকাঠামো
প্রস্তাবিত এই নতুন শহরটি প্রায় ২০,২০০ একর জমি জুড়ে বিস্তৃত হবে। এর মধ্যে মূল ‘কোর এরিয়া’ থাকবে ৮০০ একর। টাউনশিপটি মূলত চারটি ব্লক— কান্তি, মাদওয়ান, কুধনি এবং মুশারি-র মোট ৬৮টি গ্রামের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হবে। বড় পার্ক, খেলার মাঠ, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, প্রশস্ত রাস্তা এবং উন্নত ড্রেনেজ সিস্টেমের মাধ্যমে একে একটি বিশ্বমানের বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য।
জমি কেনাবেচায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা
প্রকল্পের কাজ মসৃণ রাখতে এবং দালালচক্র রুখতে সরকার এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রস্তাবিত টাউনশিপ এলাকায় আগামী ৩০ জুন, ২০২৭ পর্যন্ত জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং হস্তান্তরের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ অনেকেরই জমির বায়না বা অগ্রিম লেনদেন মাঝপথে আটকে গিয়েছে।
জমির মালিকদের জন্য বাম্পার অফার
সরকার জানিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য যাদের জমি নেওয়া হবে, তাদের লোকসানের কোনও কারণ নেই। ‘ল্যান্ড পুলিং’ নীতির আওতায় জমির মালিকদের (রায়ত) উন্নত এলাকার প্রায় ৫৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ওই উন্নত জমির বাণিজ্যিক মূল্য থেকে মালিকরা নিয়মিত আয়ের সুযোগ পাবেন।
বিমানবন্দরের সান্নিধ্য ও ভৌগোলিক গুরুত্ব
নিউ তিরহুত টাউনশিপটি ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত। এটি বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১.৫ কিমি দূরে গড়ে উঠছে। আগামী বছরের মধ্যে এখান থেকে ১৯-আসন বিশিষ্ট বিমান পরিষেবা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে এই শহরের অর্থনীতিতে। টাউনশিপের উত্তর সীমানায় পানাপুর এবং দক্ষিণে তুর্কি পর্যন্ত এর বিস্তার থাকবে।
উন্নয়নের আওতায় যে গ্রামগুলো
বিশেষ জোন বা স্পেশাল এরিয়ার মধ্যে কুধনি ব্লকের গৌরাইয়া, খারাউনা, সাকরি সরাইয়া এবং মুশহারি জেলার পাতাহি, মধুবনি, খাবরা ও ডুমরির মতো গ্রামগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকারের আশা, এই প্রকল্প কেবল নগরায়ন নয়, বরং উত্তর বিহারে কর্মসংস্থানের নতুন জোয়ার নিয়ে আসবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির ভোল বদলে দেবে।