মধ্যরাতে জাতীয় সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! কন্টেনারে ধাক্কা বীরবাহা হাঁসদার কনভয়ের, রক্তাক্ত ২ পুলিশকর্মী

ভোটের প্রচারে ব্যস্ততা তুঙ্গে, তার মাঝেই গভীর রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন বিদায়ী মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ উলুবেড়িয়ার বীরশিবপুর ফ্লাইওভারে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মন্ত্রীর পাইলট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কন্টেনারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে দুই পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
শুক্রবার মেদিনীপুরে একটি নির্বাচনী কর্মসূচি সেরে কলকাতা অভিমুখে ফিরছিলেন বীরবাহা হাঁসদা। বীরশিবপুর ফ্লাইওভারে ওঠার সময় মন্ত্রীর গাড়িকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়া পুলিশের পাইলট ভ্যানটি আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ফ্লাইওভারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি কন্টেনারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটি। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, পুলিশের গাড়িটির সামনের অংশ কার্যত খেলনার মতো দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
আহতদের উদ্ধারে খোদ মন্ত্রী:
দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের গাড়ি থামিয়ে দ্রুত নেমে আসেন বীরবাহা হাঁসদা। নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য অপেক্ষা না করে তিনি নিজেই উদ্ধারকাজে হাত লাগান। রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করেন এক এসআই (SI) এবং এক কনস্টেবলকে। মন্ত্রীর তৎপরতায় তাঁদের তড়িঘড়ি উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দুই পুলিশকর্মীর অবস্থাই বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
তদন্তে পুলিশ:
এই দুর্ঘটনায় বীরবাহা হাঁসদার নিজের গাড়িটি অক্ষত থাকলেও তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতেই বিকল্প অন্য একটি গাড়িতে করে তিনি কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। জাতীয় সড়কের ওপর ওই কন্টেনারটি বেআইনিভাবে দাঁড়িয়ে ছিল কি না কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে এই দুর্ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ।
ভোটের মুখে এই দুর্ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মন্ত্রীর এই মানবিক ভূমিকা এবং নিজে দাঁড়িয়ে থেকে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়টি প্রশংসিত হচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।