“জিতলে দিদিকে খাওয়াব আমিষ পার্টি!” মাছ-মাংসের মেনু বাতলে মমতা-কে খোলা চ্যালেঞ্জ হিমন্তর

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়ছে। আর সেই উত্তাপের মধ্যেই এবার যুক্ত হলো জিভে জল আনা এক ‘আমিষ’ বিতর্ক! শুক্রবার রাতে রাজারহাট-গোপালপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি ‘আমিষ পার্টি’ বা নন-ভেজিটেরিয়ান ডিনারের আমন্ত্রণ জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তবে এই আমন্ত্রণের আড়ালে লুকিয়ে ছিল বিজেপির জয়ের তীব্র আত্মবিশ্বাস।
কী বললেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা?
বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় হিমন্ত তাঁর স্বভাবসুলভ রসিকতার মেজাজে বলেন, “দিদিকে বলব, রাজারহাটে আমরা জিতলে একটা বড় পার্টি দেব। সেই পার্টির মেনু হবে পুরোপুরি আমিষ। রাজারহাট থেকে আসবে টাটকা মাংস, আর আমি নিজে অসম থেকে স্পেশাল মাছ পাঠিয়ে দেব।” অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য শোনা মাত্রই জনসভায় উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে।
বিজেপির জয়ের আত্মবিশ্বাস:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দিদি’ সম্বোধন করে হালকা চালে আক্রমণ করলেও, হিমন্তর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে রাজারহাট-গোপালপুর নিয়ে বিজেপি কতটা আশাবাদী। তিনি দাবি করেন, কেবল রাজারহাট নয়, উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন কেন্দ্রে জয়ী হয়ে বিজেপি এভাবেই উৎসবমুখর অনুষ্ঠান করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের সঙ্গে জনসংযোগ স্থাপনে হিমন্তর এই ‘রসিকতা কৌশল’ বেশ কার্যকর।
রাজারহাটের রাজনৈতিক লড়াই:
রাজারহাট-গোপালপুর আসনটি তথ্যপ্রযুক্তি হাব হওয়ার কারণে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে শহুরে ও আধুনিক ভোটারদের সংখ্যা বেশি। এই কেন্দ্রে হেভিওয়েট লড়াইয়ের মাঝেই হিমন্তর এই সফর দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে। বিজেপি কর্মীরা মনে করছেন, এই ধরণের হালকা মেজাজের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে দলের বার্তা আরও সহজে পৌঁছে দেয়।
ভোটের ময়দানে রসিকতা বনাম সমালোচনা:
তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনার পাশাপাশি হিমন্ত বিশ্ব শর্মা যেভাবে মৈত্রী ও ভোজের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এখন দেখার, হিমন্তর এই ‘আমিষ পার্টির’ আমন্ত্রণ রাজারহাটের ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে এবং ৪ মে-র ফলাফলের পর কার পাতে শেষ পর্যন্ত জয়ের স্বাদ জোটে।