কলকাতার পর এবার বেঙ্গালুরু! পরীক্ষার হলে পৈতে খুলতে বাধ্য করা হলো পড়ুয়াদের, ৩ অধ্যাপক সাসপেন্ড

পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে কানের দুল বা ধাতব গয়না খুলতে বলা সাধারণ নিয়ম। কিন্তু কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে কমন এন্ট্রান্স টেস্ট (CET) দিতে গিয়ে ছাত্রদের ‘পৈতে’ বা উপবীত খুলতে বাধ্য করার ঘটনায় ছড়াল তীব্র উত্তেজনা। কলকাতার এসএসসি (SSC) পরীক্ষায় নোয়া খোলা নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার টেক-সিটির এই ঘটনায় তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পরীক্ষার প্রথম দিন বেঙ্গালুরুর একটি নামী কলেজে এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন ব্রাহ্মণ ছাত্র। অভিযোগ, হলের ভেতরে ঢোকার আগে শিক্ষকদের একটি দল তাঁদের পবিত্র উপবীত বা পৈতে খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। এক পড়ুয়া সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানান, “আমি কানের দুল খুলে ফেলেছিলাম কারণ ধাতব জিনিস নিষিদ্ধ। কিন্তু শিক্ষকরা জোর করে আমার পৈতে-ও খুলিয়ে দেন। পরীক্ষার চাপে তখন বাধ্য হয়েছিলাম, কিন্তু এটা আমার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত।” শুধু পৈতে নয়, ছাত্রদের কবজিতে বাঁধা রক্ষা কবচ বা লাল-হলুদ সুতোও ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ:
ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা কলেজের সামনে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে কর্নাটক সরকার তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিয়েছে:
সাসপেনশন: এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ওই কলেজের তিনজন অধ্যাপককে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এফআইআর (FIR): পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র আওতায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।
তদন্তের নির্দেশ: উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এম সি সুধাকর বিষয়টিকে “দুঃখজনক” বলে ব্যাখ্যা করেছেন এবং বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
উত্তপ্ত রাজনীতি:
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধী দল বিজেপি। কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারকে “হিন্দু-বিরোধী” বলে তোপ দেগেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর অশোক। তাঁর দাবি, এই সরকারের আমলে হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক যেমন মঙ্গলসূত্র বা উপবীত নিয়ে বারবার এধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে।
কী বলছে নিয়ম?
গত বছর একই ধরণের বিতর্কের পর কর্নাটক সরকার স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, সিইটি (CET) বা নিট (NEET) পরীক্ষার সময় যজ্ঞোপবীত বা পৈতে খোলা বাধ্যতামূলক নয়। তা সত্ত্বেও এই নির্দেশ কেন দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে নির্দেশিকা আরও স্পষ্ট করা হবে যাতে কোনো পড়ুয়াকে হেনস্থার শিকার হতে না হয়।