৪ মে-র পর কি বন্ধ হয়ে যাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার? নির্বাচনের ফলের আগেই তুঙ্গে তরজা, আপনার টাকা কি সুরক্ষিত?

২০২৬ সালের বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধ এখন মাঝপথে। প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পর নজর এখন দ্বিতীয় দফার দিকে। তবে সব জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটিই তারিখ— ৪ মে, ২০২৬। ওই দিনই জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছে। কিন্তু সেই ফলের ওপর কেবল ক্ষমতা নয়, ঝুলে রয়েছে রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার ভাগ্য। প্রশ্ন উঠেছে, ৪ মে-র পর কি সচল থাকবে জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’?

তৃণমূলের প্রতিশ্রুতি ও ধারাবাহিকতা:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান নির্বাচনী হাতিয়ারই হলো এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। তৃণমূলের দাবি, তাদের সরকার ক্ষমতায় ফিরলে এই প্রকল্প কেবল জারি থাকবে তা-ই নয়, প্রয়োজনে ভাতার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে। তৃণমূল এই প্রকল্পকে ‘বাংলার মহিলাদের রক্ষাকবচ’ হিসেবে তুলে ধরেছে। দলের সাফ কথা—৪ মে তৃণমূল জিতলে ৫ মে থেকেই যথারীতি টাকা ঢুকবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।

বিজেপির ৩০০০ টাকার ‘মাস্টারস্ট্রোক’:
অন্যদিকে, বিরোধী দল বিজেপি এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সরাসরি পাল্টা চাল দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি বিজেপির ‘সংকল্প পত্রে’ ঘোষণা করেছেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য মাসিক ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জনপ্রিয়তা কমাতে এবং মহিলা ভোট ব্যাংক নিজেদের দিকে টানতেই এই বিপুল ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গেরুয়া শিবির।

বন্ধ হওয়ার গুঞ্জন ও ভোটারদের ধোঁয়াশা:
রাজ্যের আনাচে-কানাচে গুঞ্জন রটেছে যে, নির্বাচনের পর নাকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের বেহাল আর্থিক পরিস্থিতির কারণে এই প্রকল্প চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যদিও তৃণমূল এই দাবিকে ‘বিজেপির অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— যদি ক্ষমতার পালাবদল হয়, তবে নতুন সরকার কি এই প্রকল্প চালু রাখবে নাকি নাম বদলে নতুন প্রকল্প আনবে?

ভোটের ময়দানে প্রভাব:
১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের একমাত্র বড় তুরুপের তাস হলো এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। অন্যদিকে, বিজেপি ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই তাস কাটার চেষ্টা করছে। বেকারত্ব এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো ইস্যুগুলো কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মায়াজাল কাটাতে পারবে? উত্তর মিলবে ৪ মে।

বাংলার কোটি কোটি মহিলার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এখন ইভিএম-এ বন্দি। ৪ মে-র রায়ই ঠিক করে দেবে— বাংলার মায়েরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান মডেলেই ভরসা রাখছেন, নাকি বিজেপির আরও বড় প্রতিশ্রুতির দিকে ঝুঁকছেন।