“ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করছে, সময় শেষ!” ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রণমূর্তি ধরলেন ট্রাম্প

ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে। তেহরানকে কার্যত দেওয়ালের পিঠ ঠেকিয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শান্তি চুক্তিতে আসার জন্য ইরানের হাতে সময় অত্যন্ত কম। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, “আমার হাতে প্রচুর সময় থাকলেও ইরানের হাতে নেই। ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে চলছে।”
ইরানের আকাশে রহস্যময় বিস্ফোরণ:
গত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির আবহ উবে গিয়ে আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইরানের আকাশ। তেহরানের আকাশে শোনা গিয়েছে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ। এই বিস্ফোরণের উৎস নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে ধোঁয়াশা, ঠিক তখনই ইজরায়েল সাফ জানিয়ে দিয়েছে—এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো যোগ নেই।
ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি:
হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক শক্তি এবং নেতৃত্ব প্রায় ধ্বংসের মুখে। পরমাণু যুদ্ধ প্রসঙ্গে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য, “কেন পরমাণু বোমা ফেলব? সাধারণ অস্ত্রেই তো ওদের পিষে দিয়েছি। পরমাণু অস্ত্র কারও ব্যবহার করা উচিত নয়।” ট্রাম্পের এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে, তেহরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে বদ্ধপরিকর ওয়াশিংটন।
হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের দামামা:
বিশ্বের তেলের বাজারের প্রাণকেন্দ্র ‘হরমুজ প্রণালী’ এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
কড়া নির্দেশ: ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে মাইন পাততে দেখলেই ইরানের নৌকা ডুবিয়ে দেবে মার্কিন ফৌজ।
রণতরী মোতায়েন: ইতিমধ্যেই ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’-সহ তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ওই এলাকায় টহল দিচ্ছে।
অবরোধ: ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করার ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।
শান্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চিত:
পাকিস্তানের মাটিতে দুই দেশের যে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি বৈঠকের কথা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। ভারত মহাসাগরে ইরানের তেলবাহী জাহাজ আটক করা নিয়ে উত্তেজনা এখন চরমে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড়সড় ধস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।