মমতার দুর্গে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসকে নিয়ে শাহের অবাক করা ‘ভবিষ্যদ্বাণী’! বিজেপির চাণক্যর নিশানায় এবার কোন সমীকরণ?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ঠিক আগেই বাংলা চষে বেড়াচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার এবং বুধবার পর পর একাধিক জনসভা থেকে তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। তবে এবার তাঁর নিশানায় কেবল তৃণমূল নয়, কংগ্রেসকে নিয়েও এক বিস্ফোরক ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ করে বসলেন বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতা।

কী বললেন অমিত শাহ? শিলিগুড়ি এবং সালবনিতে নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন শাহ দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। এই আবহে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুটা ব্যঙ্গের সুরেই বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এবার সম্ভবত খাতা খুলতে পারে কংগ্রেস। এর বেশি কোনো প্রত্যাশা রাখা ভুল।”

শাহের মন্তব্যের নেপথ্যে কোন সমীকরণ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের এই মন্তব্যের পিছনে গভীর কৌশল রয়েছে:

  • ভোট কাটাকাটির অঙ্ক: কংগ্রেস খাতা খুলবে বলার অর্থ হলো— তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানো। শাহ বোঝাতে চেয়েছেন, বিরোধী ভোট ভাগ হলে আখেরে লাভ বিজেপির।

  • বাম-কংগ্রেস জোটকে গুরুত্বহীন করা: কংগ্রেসকে কেবল ‘খাতা খোলা’র পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রেখে তিনি পরোক্ষভাবে বার্তা দিলেন যে লড়াইটা মূলত বিজেপি বনাম তৃণমূলেরই।

  • সংখ্যালঘু ভোট: মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো জেলায় যেখানে কংগ্রেসের কিছুটা প্রভাব রয়েছে, সেখানে ভোটারদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলতেই শাহের এই মন্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূলের পাল্টা তোপ: অমিত শাহের এই মন্তব্যকে আমল দিতে নারাজ শাসকদল। তৃণমূলের মুখপাত্রদের দাবি, “বিজেপি জানে তারা হারছে, তাই এখন অন্য দলের ভবিষ্যৎবাণী করতে বসেছেন শাহ। বাংলার মানুষ আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বেছে নেবে।”

কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া: শাহের এই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ শুনে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব পাল্টা আক্রমণ করে জানিয়েছে, বিজেপি এবং তৃণমূলের বাইনারি তৈরির চেষ্টাকে এবার রাজ্যের মানুষ ভেস্তে দেবে। কংগ্রেস কেবল খাতা খুলবে না, রাজ্যের নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠবে।

ভোটের এই আবহে অমিত শাহের এই মন্তব্য কি কেবলই রাজনৈতিক কৌশল নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনো সমীকরণ? উত্তর মিলবে নির্বাচনের ফলাফলেই।