কড়া পাহারায় বাংলা, জব্দ কোটি কোটি টাকার মদ ও ড্রাগস! প্রথম দফার আগেই কমিশনের বড় ‘ধামাকা’, বিপাকে অসাধু চক্র

ভোট মানেই কি টাকার খেলা? সেই প্রশ্ন আবারও উসকে দিল নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। প্রথম দফার ভোট শুরু হতে না হতেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, সোনা এবং মাদক দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করেছে কমিশন। কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা বাংলায় এই বিপুল অংকের সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কত টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হলো? নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত বাংলায় রেকর্ড পরিমাণ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। কমিশনের মেমো বলছে:
-
নগদ টাকা: কয়েক কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে, যা মূলত বিভিন্ন চেকপোস্ট এবং গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া গিয়েছে।
-
মদ ও মাদক: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা হতে পারে এমন বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি মদ এবং ড্রাগস বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
-
সোনা ও গয়না: তালিকায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু, যার কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি বহনকারীরা।
-
অন্যান্য উপহার: ভোটারদের প্রলুব্ধ করার জন্য মজুত রাখা শাড়ি, রান্নার সরঞ্জাম এবং ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেটও উদ্ধার করেছে ফ্লাইং স্কোয়াড।
কমিশনের কড়া বার্তা: কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচনে অর্থের প্রভাব কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি কমিশনের নিজস্ব নজরদারি দল (Flying Squads) এবং স্ট্যাটিক সার্ভেইল্যান্স টিম (SST) ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে আন্তঃরাজ্য সীমানা এবং স্পর্শকাতর জেলাগুলোতে নাকা চেকিং আরও বাড়ানো হয়েছে।
কেন এই অতি-সক্রিয়তা? অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিশন এবার কোমর বেঁধে নেমেছে। ভোট কিনতে যাতে কালো টাকা বা মদের বন্যা বইতে না পারে, তার জন্যই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ। গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সন্দেহভাজন গতিবিধির ওপর ড্রোন এবং সিসিটিভি-র মাধ্যমেও নজর রাখা হচ্ছে।
উপসংহার: প্রথম দফার ভোট শুরুর আগেই কমিশনের এই বিরাট ‘রিকভারি’ অসাধু চক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভোটের বাকি দফগুলোতে এই উদ্ধারপর্ব কোন পর্যায়ে পৌঁছায়, সেটাই এখন দেখার।