ভোট দিলেই পরিণতি ‘ভয়াবহ’? লাভপুরে তৃণমূল নেতার চরম হুমকিতে রণক্ষেত্র বঙ্গ রাজনীতি, নালিশ কমিশনে

প্রথম দফার ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ফের একবার উত্তপ্ত বীরভূম। এবার ভোটারদের সরাসরি ‘কেটে পিস পিস’ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। বীরভূমের লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত দাঁড়কা অঞ্চলের সাউগ্রামের এই ঘটনায় শাসক শিবিরের গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে ঠিক কী বলেছেন নেতা?

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি ডেইলিয়ান্ট) লাভপুরের স্থানীয় তৃণমূল নেতা ডালিম শেখকে দলীয় গ্রাম্য বৈঠকে ভোটারদের উদ্দেশে রীতিমতো গর্জন করতে দেখা যাচ্ছে। তাঁকে বলতে শোনা যায়— “যদি ভোট অন্য কোনও দলে পড়ে, তাহলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। যদি ৫০টা ভোট পড়ে, তাহলে পা ভেঙে দেব। কেটে পিস পিস করে দেব। তোরা বাড়িতে থাকতে পারবি না। ভোট গণনা পর্যন্ত বেঁধে রেখে দেব।”

এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বুথমুখী হওয়া আটকাতেই এই ‘রক্তহিম’ করা কৌশল নিয়েছে শাসক দল।

“পুলিশ তৃণমূলের হয়ে ভোট করছে”: তোপ বিজেপির

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লাভপুরের বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝা। তিনি সরাসরি পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দেবাশিসবাবুর অভিযোগ, “তৃণমূল নেতার এই প্রকাশ্য হুমকির কথা পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ কার্যত তৃণমূলের দলদাস হিসেবে কাজ করছে। এভাবে অবাধ ভোট হওয়া অসম্ভব।”

কোচবিহারে পুলিশের কড়া অ্যাকশন

এদিকে বীরভূমে যখন হুমকির রাজনীতি চলছে, তখন উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে অশান্তি রুখতে সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। মেখলিগঞ্জে অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কায় তৃণমূল নেতা ঝুমুর আলি ফকিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে পুরনো একাধিক মামলা রয়েছে। মেখলিগঞ্জের আরও প্রায় ২০০ জন নেতার ওপর বর্তমানে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।

নির্বাচন কমিশন যখন দাবি করছে রাজ্যে ‘বাহুবলী’দের দাপট রুখতে তারা প্রস্তুত, ঠিক তখনই ডালিম শেখের এই ‘কেটে ফেলার’ হুমকি কমিশনের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়ালো বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।