“নেই আংটি কিম্বা হার, বদলায়নি চুলের ছাঁটও!” ২২ বছরে নিজের জীবনে কী কী বদল দেখলেন শুভেন্দু অধিকারী?

ভোটের ময়দানে দিন নেই, রাত নেই— এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। রোদ-ঝড় মাথায় নিয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটছেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এই ৫৫ বছর বয়সেও কোথা থেকে আসে এই অফুরান প্রাণশক্তি? টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সেই রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন তিনি।

“আমার নিজের প্রতি আস্থা আছে”:
ফিট থাকার রহস্য বলতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী টেনে আনলেন স্বামী বিবেকানন্দের দর্শন। তিনি বলেন:

“স্বামীজি বলে গিয়েছেন, যাঁর নিজের প্রতি আস্থা রয়েছে তিনি সাত্ত্বিক। আমার নিজের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। পঞ্চান্ন বছর বয়সেও সুরাপান বা অন্যান্য আসক্তি থেকে ভগবান আমাকে দূরে রেখেছেন।”

শুভেন্দুর দাবি, এই সংযমই তাঁকে প্রতিদিনের লড়াইয়ে শক্তি জোগায়।

২২ বছরে বদলায়নি কিছুই!
নিজের জীবনযাত্রার কথা বলতে গিয়ে বিজেপি প্রার্থী জানান, গত দুই দশকে তাঁর শরীরে বয়সের ছাপ পড়লেও ব্যক্তিত্বে বা অভ্যাসে কোনো বদল আসেনি। ২০০৪ সালে যেমন সাধারণ সুতির পোশাকে অভ্যস্ত ছিলেন, ২০২৬-এও তেমনই আছেন। তিনি সগর্বে জানান:

“চুলের ছাঁট ও গোঁফের স্টাইল একই আছে।”

“আগে রাজ্যের নিরাপত্তা ছিল, এখন কেন্দ্রের নিরাপত্তা আছে।”

“ঘড়ি, আংটি বা গলায় সোনার হার— কোনো বিলাসিতাই আগে ছিল না, এখনও নেই।”

প্রচার ময়দানে সাধারণ বেশ:
শুভেন্দু যখন নিজের এই সাধারণ জীবনযাপনের কথা বলছিলেন, তখন চারপাশে বিজেপি কর্মীদের ভিড় আর ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। শুভেন্দু দাবি করেন, তাঁর গাড়ির রং বা ব্র্যান্ড পর্যন্ত বদলায়নি। নেটিজেনদের একাংশের মতে, এই ‘সিমপ্লিসিটি’ বা সাধারণ ভাবমূর্তিই জনমানসে তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম চাবিকাঠি।

ভোটের লড়াইয়ে জেতা-হারা পরের কথা, কিন্তু এই গরমের মধ্যেও শুভেন্দু অধিকারীর এমন ফিটনেস যে অনেক তরুণ রাজনীতিবিদের কাছেও ঈর্ষণীয়, তা বলাই বাহুল্য।