আবারও তেলের দামে আগুন! ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে ৮% মহার্ঘ্য ক্রুড অয়েল, সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় ব্যারেল

শান্তি চুক্তির আশায় জল ঢেলে ফের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ওমান সাগর। যার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একলাফে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হলেও, ফের তা বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে ইরানের একটি কার্গো জাহাজে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস স্প্রুরান্স’-এর গাইডেড মিসাইল হামলা পরিস্থিতিকে আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।
তেলের বাজারে অস্থিরতা:
সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণার পর বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারে নেমে এসেছিল। কিন্তু রবি ও সোমবারের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর:
ডব্লুটিআই (WTI) ক্রুড: ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ৮৯.১০০ ডলার ছুঁয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার: ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংঘাত না থামলে তেলের দাম খুব দ্রুত ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে।
ভারতের ওপর প্রভাব:
ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের রাজকোষে। আমদানি খরচ বাড়লে দেশের বাজারে:
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার সম্ভাবনা।
জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে, যার ফলে সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি সামগ্রীর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
শান্তি বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা:
সোমবার পাকিস্তানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওমান উপকূলে আমেরিকার এই মিসাইল হামলার পর ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আলোচনার টেবিলে বসতে নারাজ। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সংকেত পাচ্ছেন কূটনীতিবিদরা।
পেছনের প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, এর আগে যখন সংঘাত চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, তখন তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী—যা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়—তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গোটা বিশ্ব এখন এক গভীর জ্বালানি সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে।