“মৌলবাদীরা ভাবেন না, হিন্দুরা এখন সংগঠিত!” নন্দীগ্রামের ভোট নিয়ে শুভেন্দুর নিশানায় মমতা

গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর কারিগর ছিলেন তিনি। ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে এবার শুভেন্দু অধিকারীর কাঁধে জোড়া দায়িত্ব— নিজের গড় নন্দীগ্রাম রক্ষা করা এবং ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হওয়া। ভোটের প্রচারের মাঝেই মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক এবং নন্দীগ্রামের বঞ্চনা নিয়ে সরব হলেন এই বিজেপি হেভিওয়েট।

মুসলিম ভোট নিয়ে স্পষ্ট কথা:
৫ বছর আগের অভিজ্ঞতার কথা টেনে শুভেন্দু জানান, সেবার নন্দীগ্রামের ৬৪ হাজার মুসলিম ভোটের প্রায় সবটাই গিয়েছিল তৃণমূলের ঝোলায়। এবার তাঁর অবস্থান কী? শুভেন্দু বলেন:

“মুসলিমরা ভাবনাচিন্তা করেন না, বিশেষ করে যারা মৌলবাদী। তবে রাষ্ট্রবাদী মুসলিমরা এখন আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সংখ্যায় তাঁরা কম হলেও, তাঁদের সমর্থন আমরা পাচ্ছি।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি মুসলিম ভোট চান না এমন নয়, বরং বাস্তব চিত্র হলো মুসলিম ভোট সাধারণত তাঁর দিকে যায় না। তবে হিন্দুদের মধ্যে এবার বাড়তি সচেতনতা এবং সংগঠন গড়ে উঠেছে বলে দাবি তাঁর।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ:
নন্দীগ্রামে জেতার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই এলাকাকে অবহেলা করেছেন বলে তোপ দাগেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ:

হারের পর গত ৫ বছরে একবারও নন্দীগ্রামে পা রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী।

নন্দীগ্রামের মানুষ যাতে পরিশ্রুত পানীয় জল না পান, সেজন্য পাইপ বসানোর কাজেও বাধা দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি জিতলে কী হবে?
রাজ্যে বিজেপি সরকার আসা নিয়ে ১০০ শতাংশ আশাবাদী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্ব দূর করা। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের ৩০ হাজার যুবক ভিনরাজ্যে কাজ করতে বাধ্য হন। আমাদের সরকার এলে সেই ছেলেদের নিজের রাজ্যে ফিরিয়ে এনে হাতে কাজ, পেটে ভাত আর মাথায় ছাদ দেব— এটাই বিজেপির অঙ্গীকার।”

ভবানীপুর নিয়ে বার্তা:
বিরোধী দলনেতা হিসেবে দলের নির্দেশ মেনেই তিনি ভবানীপুরে লড়ছেন। দল তাঁর ওপর যে ভরসা রেখেছে, তার মর্যাদা দিতে তিনি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করবেন বলে জানান। সবশেষে তাঁর হুঙ্কার, “এবার বিধানসভার সূচনা হবে ‘ভারতমাতা কি জয়’ ধ্বনি দিয়ে, আমরা সবাই মিলে ‘বন্দেমাতরম’ গাইব।”