রাতেই রাহুল-অভিষেক ফোনাফুনি! লোকসভায় মোদীকে হারিয়েই নয়া সমীকরণ, কোন ঝড়ের ইঙ্গিত দিলেন অভিষেক?

১২ বছরের দীর্ঘ সংসদীয় ইতিহাসে এমন ধাক্কা আগে কখনও খায়নি নরেন্দ্র মোদী সরকার। লোকসভায় ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হলো এনডিএ। আর এই জয়ের পরই জাতীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ‘টেলিফোনিক ডিপ্লোম্যাসি’ বা সৌজন্যের রাজনীতির সাক্ষী থাকল দেশ। শুক্রবার রাতে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করলেন রাহুল গান্ধী।
কেন অভিষেককে রাহুলের ফোন?
লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদদের উপস্থিতি এবং বিলের বিপক্ষে একজোট হয়ে ভোট দেওয়া ছিল মোদী সরকারকে আটকানোর প্রধান অস্ত্র। তৃণমূলের এই ভূমিকাকে কুর্নিশ জানাতেই রাহুল ফোন করেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে।
অভিষেকের বার্তা: রাহুলকে ফোনে অভিষেক স্পষ্ট জানান, “জাতীয় রাজনীতিতে হাওয়া এখন বিজেপি-র বিরুদ্ধে ঘুরছে।”
খাড়গে-ডেরেক কথা: একইভাবে রাজ্যসভায় সমন্বয়ের জন্য ডেরেক ও’ব্রায়েনকে ধন্যবাদ জানান কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ফোন করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অখিলেশ যাদব।
বিজেপির কটাক্ষ: ‘দিল্লিতে দোস্তি, বাংলায় কুস্তি’
তৃণমূল ও কংগ্রেসের এই গভীর বন্ধুত্ব প্রকাশ্যে আসতেই আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এটি স্রেফ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার ‘নাটক’। তাদের যুক্তি— মাত্র দু’দিন আগেই বাংলায় এসে আরজি কর ইস্যুতে মমতা সরকারকে বিঁধেছিলেন রাহুল, আর দিল্লিতে সেই রাহুলই অভিষেককে ফোন করছেন! বাংলায় কংগ্রেস যখন ২৯৪ আসনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ছে, তখন এই ‘দোস্তি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বঙ্গ বিজেপি।
এক্স-এ (X) অভিষেকের হুঙ্কার
বিল পতনের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন:
“লোকসভায় বিল পাশের ব্যর্থতা বিজেপি-র অস্বস্তিকে প্রকাশ্যে এনে ফেলেছে। এনডিএ সরকার এখন স্রেফ ‘ধার করা সময়ে’ চলছে। তাদের নিয়ন্ত্রণের ভ্রম এখন সবার চোখের সামনে ভেঙে চুরমার হতে শুরু করেছে।”
২০২৬-এর আগে নয়া মোড়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভায় এই সাফল্য ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পালে হাওয়া দিল। তবে দিল্লির এই মাখামাখি বাংলার তৃণমূল বনাম কংগ্রেস লড়াইয়ে ভোটারদের মনে কতটা দ্বিধা তৈরি করবে, এখন সেটাই দেখার।