লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে টেক্কা দিতে বিজেপির ‘অন্নপূর্ণা’! মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার মেগা ঘোষণা গেরুয়া শিবিরের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে উঠতেই ‘নারী ভোটব্যাঙ্ক’ দখলে সম্মুখ সমরে তৃণমূল ও বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুরুপের তাস ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা দিতে এবার বড় ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি। ক্ষমতায় এলে রাজ্যের প্রতিটি মহিলার অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিল গেরুয়া শিবির। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার
বর্তমানে তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১,৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন। বিজেপির দাবি, তারা ক্ষমতায় এলে এই ভাতার পরিমাণ হবে দ্বিগুণ। অর্থাৎ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে যোগ্য প্রতিটি মহিলা পাবেন মাসে ৩,০০০ টাকা।

মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড ও ডোর-টু-ডোর ক্যাম্পেইন
শুধুমাত্র মুখে প্রতিশ্রুতি নয়, ১লা বৈশাখের পুণ্যলগ্ন থেকেই ময়দানে নেমে পড়েছেন বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীরা।

ফর্ম বিলি: বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ বিলি করা হচ্ছে।

তথ্য সংগ্রহ: নাম নথিবদ্ধ করার পাশাপাশি সম্ভাব্য উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির কাজও শুরু করেছে তারা।
সম্প্রতি কলকাতায় এসে স্মৃতি ইরানি নিজে এই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর রূপরেখা তুলে ধরেন, যা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

কারা পাবেন এই সুবিধা?
তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মূলত সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে চালু হয়েছিল। তবে বিজেপির প্রস্তাবিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ আরও বড় পরিসরে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, বাংলার প্রতিটি ঘরে এই ভাতার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে নারীশক্তির প্রকৃত উন্নয়ন ঘটে।

রাজনৈতিক লড়াই তুঙ্গে
তৃণমূল শিবিরের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার একটি সফল ও পরীক্ষিত প্রকল্প। বিজেপির এই ঘোষণাকে তারা ‘ভোটের গিমিক’ হিসেবেই দেখছে। অন্যদিকে, বিজেপির যুক্তি—মহিলাদের সুরক্ষা এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা দিতে তারা বর্তমান ভাতার দ্বিগুণ টাকা দিতে বদ্ধপরিকর।

পহেলা বৈশাখের পর থেকে পাড়ায় পাড়ায় বিজেপির এই ‘ফর্ম বিলি’ কর্মসূচি বাংলার গ্রামগঞ্জ ও শহরের অলিতে-গলিতে এক নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে। এখন দেখার, ৩,০০০ টাকার এই মেগা প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কতটা প্রতিফলন ঘটায়।