ভোট প্রচারে কোটি কোটি টাকা খরচ! মমতা-অভিষেকের সভার খরচ যোগায় কে? সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে পারদ চড়ছে বাংলায়। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— ঝোড়ো সফর করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জনসভা করছেন দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই রাজকীয় প্রচার, হাই-টেক মঞ্চ আর হেলিকপ্টার সফরের বিপুল খরচ আসে কোথা থেকে? রাজ্য সরকার নাকি তৃণমূল দল— কে বহন করে এই ভার?
নির্বাচন কমিশনের কড়া নিয়ম
ভোটের লড়াইয়ে নামা প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তাদের খরচের পাই-পাই হিসেব দিতে হয় নির্বাচন কমিশনে। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কোষাগার থেকে নয়, বরং রাজনৈতিক দলকেই এই খরচ বহন করতে হয়। লোকসভা বা বিধানসভা ভোট মেটার কয়েক মাসের মধ্যেই এই হিসেব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
২০২১ বনাম ২০২৬: খরচের খতিয়ান
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস যে হিসেব জমা দিয়েছিল, তা রীতিমতো চমকপ্রদ।
সেবার মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ১৫৪.২৮ কোটি টাকা।
এর মধ্যে শুধু প্রার্থীদের জন্য ব্যয় হয়েছিল ৭৪.৬১ কোটি টাকা।
তারকা প্রচারকদের যাতায়াত (হেলিকপ্টার ও অন্যান্য) বাবদ খরচ ছিল ৩৩.০২ কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন ও প্রচার অভিযানে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩৯ কোটি টাকা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে এই খরচের বহর অনেকটাই বাড়তে চলেছে। একদিকে যেমন জনসভার সংখ্যা বেড়েছে, তেমনই ডিজিটাল মিডিয়া ও সোশ্যাল রেটিং ধরে রাখতে ঢালা হচ্ছে মোটা টাকা।
টাকার উৎস কী?
প্রশ্ন উঠছে, এত টাকা দল পায় কোথা থেকে? ২০২১-২২ অর্থবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূলের আয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৯৬ শতাংশ টাকা এসেছিল ইলেক্টোরাল বন্ড থেকে। তবে বন্ড ব্যবস্থা বর্তমানে আইনি জটিলতায় থাকায়, এবার ফাণ্ড সংগ্রহের পদ্ধতি কী হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে।
খরচ হয় কোন কোন খাতে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি সভার পেছনে থাকে বিশাল আয়োজন।
যাতায়াত: দূরবর্তী এলাকায় দ্রুত পৌঁছাতে ব্যবহার করা হয় হেলিকপ্টার।
পরিকাঠামো: সভার মঞ্চ, লাউডস্পিকার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পেছনে বড় অঙ্ক ব্যয় হয়।
পরিবহন: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থকদের সভায় নিয়ে আসার জন্য বাস ও ট্রেন ভাড়া করতে হয় দলকে।
ডিজিটাল ক্যাম্পেইন: বর্তমান যুগে ভোটারদের মনে জায়গা করে নিতে সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনেও পিছিয়ে নেই তৃণমূল।
ভোটের দিনক্ষণ যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এবারের নির্বাচনে অর্থের লড়াইও বেশ হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে। সব হিসেব পরিষ্কার হবে ভোটের ফল বেরোনোর পর কমিশনের দপ্তরে জমা পড়া রিপোর্টে।