বাংলায় টাকার পাহাড়! ভোটের মুখে বাজেয়াপ্ত ৪২৭ কোটি, বালিগঞ্জ থেকে তমলুক— সর্বত্র উদ্ধার নগদ লক্ষ লক্ষ টাকা!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। শহর কলকাতা থেকে জেলা— সর্বত্র পুলিশের নাকা তল্লাশিতে উদ্ধার হচ্ছে বান্ডিল বান্ডিল নোট। শুক্রবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত রেকর্ড ৪২৭ কোটি টাকার সামগ্রী ও নগদ বাজেয়াপ্ত করেছে কমিশন।
বালিগঞ্জে হাই-ভোল্টেজ ড্রামা
শুক্রবার রাতে বালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের সাউথ ইস্ট ডিভিশনের স্ট্যাটিক সার্ভেলিয়েন্স টিম (SST)। আশুতোষ চৌধুরী অ্যাভিনিউ ও গুরুসদয় দত্ত রোডের মোড়ে একটি সন্দেহভাজন গাড়ি আটক করতেই উদ্ধার হয় নগদ ২৫ লক্ষ টাকা। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এই টাকার উৎস কী, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শহর ও জেলায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান
শুধুমাত্র বালিগঞ্জ নয়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের একাধিক জায়গায় মিলেছে বিপুল নগদ:
পাটুলি: ঢালাই সেতুর কাছে একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা।
ট্যাংরা: জি কে রোড ও ক্রিস্টোফার মোড় থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও ১ লক্ষ টাকা।
তমলুক: শুক্রবার সকালে তমলুকে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে ১ কোটি টাকা উদ্ধার হয়। গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তি নিজেদের কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের কর্মী বলে দাবি করলেও টাকার সঠিক হিসাব বা বৈধ নথি দেখাতে পারেননি।
পূর্ব মেদিনীপুর: বাসে তল্লাশি চালিয়ে এই জেলা থেকেই আরও প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রেকর্ড ভাঙা বাজেয়াপ্ত
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের বিধানসভা ভোটে টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার হার অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া কড়া নজরদারিতে এখনও পর্যন্ত ৪২৭ কোটি টাকার সম্পদ (যার মধ্যে নগদ, মদ, মাদক ও উপহার সামগ্রী রয়েছে) আটক করা হয়েছে।
কমিশনের কড়া বার্তা
নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে রাজ্যে ৫,০০০-এর বেশি ফ্লাইং স্কোয়াড (FST) এবং স্ট্যাটিক সার্ভেলিয়েন্স টিম (SST) মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে ২৪ ঘণ্টা চলছে নাকা চেকিং। কালো টাকা ছড়িয়ে যাতে ভোট প্রভাবিত না করা হয়, সেদিকেই পাখির চোখ কমিশনের।
ভোটের মুখে এই বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশাসনের দাবি, নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা নিয়ে চলাফেরা করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।