যুদ্ধের বাজারেও এসআইপি-তে রেকর্ড বিনিয়োগ! ৩২ হাজার কোটির গণ্ডি পার করে কেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী মিউচুয়াল ফান্ড?

২০২৬ সালে বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আর ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়া। ভারতের বাজারেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রত্যাহারের হিড়িক। কিন্তু এই সব প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রেকর্ড গড়ল দেশের খুচরো বিনিয়োগকারীরা। মার্চ মাসে এসআইপি-র মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিমাণ পৌঁছেছে ৩২,০৮৭ কোটি টাকায়, যা ভারতীয় অর্থবাজারের ইতিহাসে এক নয়া মাইলফলক।

কেন যুদ্ধের বাজারেও অটল এসআইপি?

বাজার যখন অস্থির, তখন সরাসরি শেয়ার কেনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু এসআইপি বা ‘সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ পাঁচটি কারণে এখন সবথেকে জনপ্রিয়:

  • ১. রুপি কস্ট অ্যাভারেজিং (Rupee Cost Averaging): বাজার যখন নিচে নামে, আপনার একই পরিমাণ টাকায় বেশি ‘ইউনিট’ কেনা হয়। আবার বাজার বাড়লে কম ইউনিট কেনা হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে আপনার বিনিয়োগের গড় খরচ কমে যায়। অর্থাৎ, যুদ্ধের বাজারে বাজার পড়লে আপনার আসলে লাভই হচ্ছে!

  • ২. চক্রবৃদ্ধি হারের ম্যাজিক (Compounding): ছোট ছোট বিনিয়োগ দীর্ঘ সময়ে পাহাড়প্রমাণ সম্পদে পরিণত হয়। যেমন এসবিআই স্মল ক্যাপ ফান্ডের মতো স্কিমগুলো দীর্ঘমেয়াদে এফডি-র চেয়ে বহুগুণ বেশি রিটার্ন দিয়েছে।

  • ৩. শৃঙ্খলাই আসল চাবিকাঠি: বাজার কখন বাড়বে বা কমবে, সেই দুশ্চিন্তা না করে নিয়মিত বিনিয়োগ করার অভ্যাস তৈরি হয়। এটি আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিনিয়োগকারীকে রক্ষা করে।

  • ৪. কর ছাড়ের সুবিধা: দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভে (LTCG) নির্দিষ্ট সীমার পর করের হার মাত্র ১২.৫%। যা অন্যান্য অনেক বিনিয়োগ মাধ্যমের তুলনায় সাশ্রয়ী।

রেকর্ড ভাঙা পরিসংখ্যান:

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এসআইপি বিনিয়োগ ছিল ২৯,৮৪৫ কোটি টাকা। মাত্র এক মাসে তা লাফিয়ে ৩২ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে। এমনকি ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ৫৬%। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন বাজার পড়ে যাওয়াকে ভয় না পেয়ে বরং বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:

বাজারের এই অস্থিরতা সাময়িক। ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, যে কোনো বড় সংঘাত বা যুদ্ধের পর বাজার সবসময় আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। তাই মাঝপথে এসআইপি বন্ধ না করে ধৈর্য ধরে চালিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।