ট্রাম্পের বড় চাল! আর বন্ধ হবে না হরমুজ প্রণালী; মধ্যস্থতায় আসরে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির!

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হতেই এবার আসরে নামলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমিত করতে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। লক্ষ্য একটাই— সরাসরি যুদ্ধের হাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করা।

মাঝসমুদ্রে মার্কিন ‘পুলিশি’ নজরদারি ইরানকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে চাপে রাখতে সোমবার থেকে সমুদ্রপথে কড়া অবরোধ শুরু করেছে আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইরানের অন্তত ১০টি জাহাজ মাঝসমুদ্রে আটকে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর ফলে ইরানের বন্দর থেকে কোনো জাহাজই আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেরোতে পারছে না।

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি আমেরিকার এই ‘দাদাগিরি’ মুখ বুজে সহ্য করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই কড়া ভাষায় জানিয়েছেন:

“হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পথে যদি আমেরিকা পুলিশিগিরি চালায়, তবে তাদের জাহাজে হামলা চালাবে ইরান। রেভোলিউশনারি গার্ডস এই খবরদারি বরদাস্ত করবে না।”

ট্রাম্পের ‘ট্রুথ’ বোমা ও চিনের ভূমিকা এই উত্তেজনার মধ্যেই বড় ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী আর কখনোই বন্ধ হবে না এবং এটি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে চিন অত্যন্ত খুশি। ট্রাম্পের দাবি, চিন ইরানকে আর কোনো অস্ত্র দেবে না বলে তাঁকে কথা দিয়েছে।

যদিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। দাবি করা হচ্ছে, চিন গোপনে ইরানকে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিচ্ছে এবং মার্কিন ঘাঁটির হদিস পেতে ইরান চিনা স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে।

শান্তির খোঁজে পাকিস্তান দুই পরমাণু শক্তির আস্ফালনের মাঝে শান্তি ফেরাতে কোমর বেঁধে নেমেছে পাকিস্তান। পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। হোয়াইট হাউসও এই মধ্যস্থতায় ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই ইসলামাবাদে মুখোমুখি বসতে পারেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের সেই গোপন কক্ষের দিকে— যেখানকার আলোচনার ওপরেই নির্ভর করছে আগামীর বিশ্বশান্তি।